❏ তাওহীদ ও ঈমান
• তাওহীদ
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তাওহীদ হচ্ছে কোরআনের গুপ্তধন, আর ঈমানের মূল।”
التوحيد سر القرآن ولب الإيمان
(ক্বাইদাতুন জলীলা ফীত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা, পৃষ্ঠা : ৩০৯)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “বিশুদ্ধ তাওহীদের সাথে অধিক পাপ থাকা, অল্প পাপের সাথে থাকা ভ্রষ্টতাযুক্ত তাওহীদ অপেক্ষা উত্তম।”
(আল ইস্তিকামাহ, ১/৪৬৬)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে মৌলিক বিষয় দ্বারা অন্তর ও আত্মা পরিশুদ্ধি লাভ করে, তা হচ্ছে তাওহীদ।”
(ইগাছাতুল লাহফান, ১/১০৮)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “বান্দা যতই তাওহীদ এবং সুন্নত থেকে দূরে সরে যাবে, ততই শির্ক, বিদআহ আর পথভ্রষ্টতার কাছে আসতে থাকবে।”
(ইক্বতিদাহ সীরাতুল মুস্তাকিম, ২/২৮১)
ইমাম সুফিয়ান আছ ছাওরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই উক্তির চাইতে বেশি অন্য কোন কিছুই শয়তানের পিঠে আঘাত করতে পারে না।”
ليس شيء أقطع لظهر إبليس، من قول: لا إله إلا الله
(সিয়ার আলাম আন নুবালা, ইমাম যাহাবি, ৭/২৬০)
• ঈমান
ইমাম ইবনে কুদামা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যখন তুমি দেখবে সালাতের মধ্যে তোমার অন্তর উপস্থিত থাকে না অথবা সালাতে খুশু খুযু থাকে না, তাহলে জেনে রাখো, এইটা ঈমানের দূর্বলতার কারণ। কঠোর পরিশ্রম করো নিজের ঈমানকে মজবুত বানানোর জন্য।”
ومتى رأيت قلبك لا يحضر في الصلاة، فاعلم أن سببه ضعف الإيمان، فاجتهد في تقوية إيمانك
(মুখতাসার মিনহাজুল কাসিদীন, পৃষ্ঠা : ৩০)
একজন ইমামের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ একটা ঘটনা রয়েছে, তিনি আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য এক হাজার দলীল একত্রিত করেন। যখন এই ঘটনা নিসাপুরের একজন বয়োবৃদ্ধা মহিলা জানতে পারেন, তিনি হাসতে থাকেন আর বলেন, আজিব বিষয়! আল্লাহর কসম, তার হাজারটা সন্দেহ রয়েছে বলেই সে হাজারটা দলিল অনুসন্ধান করে বেড়াচ্ছে। আল্লাহর অস্তিত্বের জন্য আবার দলিলের প্রয়োজন কি?”
واعجباً! والله لو لم يكن عنده ألف شك ما احتاج إلى أن يتعرف إلى ألف دليل، وهل وجود الله يحتاج إلى أدلة
(শরহু ফাতহুল মাজিদ, ১৩/১৩৯)
ইমাম আল হারামাইন জুয়াইনি রহিমাহুল্লাহর ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে, “যেই আক্বিদা ছিল সেই বুড়ি মহিলাটির, ঠিক সেই আক্বিদা-বিশ্বাস এর উপর আমি মৃত্যুবরণ করতে চাই।”
وأني أموت على ما يموت عجائز نيسابور
(তবাক্বাতুশ শাফেঈ আল কুবরা, ৫/১৯২; সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১৮/৩৭৩)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “শরীয়তের (সহীহ নুসুসের) বিপরীতে যার নিজের রায় দেওয়ার অভ্যাস থাকে, তার অন্তরে ঈমান স্থিত হয় না।”
من تعوّد معارضة الشّرع بالرّأي لا يستقرّ في قلبه الإيمان
(দ্বার তাআরুদ আল আক্বল ওয়া নক্বল, ১/১৮৭)
ইমাম খাত্তাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “লজ্জা মানুষ এবং গুনাহের মাঝে একটা অন্তরায়, এটা তাকে গুনাহ করা থেকে বাধা দেয়।”
(মাআলীম আস সুনান, ৪/৩১২)
তাবেঈ হাসান আল বাসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কবর গোশত আর চর্বি ভক্ষণ করে নিবে, কিন্তু ইমানকে কখনো খেতে পারবে না।”
(আল উযলাহ, ইবনে আবীদ দুনিয়া, ২০৭, সনদ সহীহ)
ইমাম ইবনে রজব রহিমাহুল্লাহ বলেন,
وإذا كان الإنسان تسوؤه سيئته ويعمل لأجلها عملاً صالحاً كان ذلك دليلاً على إيمانه
“যদি কোনো মানুষের স্বীয় গুনাহের কারণে আফসোস হয় এবং সে এজন্য নেক আমল করা শুরু করে, তবে সেটাই তাঁর ঈমানের দলিল হিসেবে প্রতিভাত হয়।”
(ফাতহুল বারী, ৩/২৮)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “দুনিয়াতে একজন মুমিনের অন্তরের চাইতে অধিক মূল্যবান, অধিক উত্তম অন্য কিছু নেই।”
(মাজমুয়াল ফাতওয়া, ১৬/২৯৪)
একবার শাইবান ইবনে ফারুখ ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলেন, যে ব্যভিচার ও মদ্যপান করে? এমন ব্যক্তি কি মু’মিন? ইমাম ইবনুল মুবারক বললেন, আমি তাকে ইমান থেকে বের করে দিই না। তখন শাইবান ইবনুল মুবারককে বলেন, আপনি কি শেষ বয়সে এসে মুরজিয়া হয়ে গেছেন? তখন ইবনুল মুবারক বলেন, মুরজিয়ারাও আমাকে কবুল করে না। কারণ আমি বলি, ‘ইমান বৃদ্ধি পায় আবার কমেও’, আর মুরজিয়ারা তা বলে না। মুরজিয়ারা বলে থাকে, ‘আমাদের নেক আমল কবুল হয়ে গেছে’। অথচ আমি আমার কোনো নেক আমলের ব্যাপারে জানি না, যা কবুল হয়েছে (অর্থাৎ, আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এমনটি বলতে পারি না)।”
(মুসনাদ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, ৩/৬৭০)
❏ শিরক ও কুফর
ইমাম সারাখসী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “নিঃসন্দেহে গায়রুল্লাহকে তাযীমি সিজদাহ (সম্মান প্রদর্শন করে সিজদা) করাও কুফুরির অন্তর্ভুক্ত।”
أن السجود لغیر الله تعالی علی وجه التعظیم کفر
(রদ্দুল মুহতার হাশিয়া ইবনে আবীদিন শামী, ৯/ ২২৭)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যেসব লোক মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, মৃত ব্যক্তিকে নিজের প্রয়োজন পূরণ করার মাধ্যম বানিয়ে নেয়, শয়তানও তাদের গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট করার কোন রাস্তা ছাড়ে না। কখনো শয়তান মৃত ব্যক্তির চেহেরা ধারণ করে নিজেকে প্রকাশ করে, কখনো এসব দূর্বল আকিদার লোকদের সাথে কথা বলে, আবার কখনো তাদের কিছু প্রয়োজন পূরণ করে দেয়। তখন তারা মনে করে, মৃত ব্যক্তি তাদের চাওয়া তাদের প্রয়োজন পূরণ করছে।অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে এসব জ্বীন এবং শয়তানের কর্মকান্ড।”
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১/১৭৪)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ইলমের সাথে সম্পর্কযুক্ত অনেক মানুষ অহংকারের বশীভূত হয়, যেভাবে ইবাদতগুজার অনেক লোক শিরকের ফাঁদে পতিত হয়। এজন্য ইলমের আপদ হচ্ছে অহংকার এবং ইবাদতের আপদ হচ্ছে রিয়া (লৌকিকতা)। আর এরাই সেইসব লোক, যারা ইলমের প্রকৃত উপকার হতে বঞ্চিত হয়।”
كثير من المنتسبين إلى العلم يبتلى بالكبر، كما يبتلى كثير من أهل العبادة بالشرك. ولهذا آفة العلم الكبر.وآفة العبادة الرياء.وهؤلاء يحرمون حقيقة العلم
(আর রদ্দ আলা শাযলী, পৃষ্ঠা : ২০৭)
ইমাম বিলাল বিন সাদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তিনটা বিষয় কারো মাঝে বিদ্যমান থাকলে তার ইবাদাত কবুল হয় না। (যথা) শির্ক, কুফর, রায়। জিজ্ঞেস করা হল, রায় কি? জবাবে তিনি বলেন, যে আল্লাহর কিতাব এবং রাসুল এর সুন্নাহ বাদ দিয়ে নিজের রায় বা মত অনুযায়ী আমল করে।”
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুয়াঈম, ৫/২২৯)
❏ ইখলাস
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
المخلص لربه كالماشي على الرمل لا تسمع خطواته ولكن ترى آثاره
“আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ব্যক্তির উদাহরণ মরুভূমির ঐ পথচারীর ন্যায়, যার পায়ের শব্দ শোনা যায় না কিন্তু পদচিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়।”
(জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ২০৩)
ইমাম ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ বলেন,
اكتم حسناتك كما تكتم سيئاتك
“এমনভাবে লুকিয়ে রাখো তোমার নেক আমলগুলো, যেভাবে তুমি তোমার মন্দ আমলগুলো লুকিয়ে রাখো।”
(সিয়ার আলাম আন নুবালা, ৬/১০০)
ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল ওয়াসিয়াহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “এক ব্যক্তি আল্লাহর রাহে ২০ বছর পর্যন্ত কান্না করতে থাকেন, তাঁর স্ত্রী সাথে ছিলেন কিন্তু কখনো জানতে পারেননি।”
(ইবনে আবী আদ দুনিয়া, ১/৪৭)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহ এর মত অন্য কাউকে দেখিনি। আমি ওনার কাছে পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত ছিলাম কিন্তু কখনো আমাদের সামনে নিজের কোন ভালো গুণের এবং কোন সৎকর্ম নিয়ে গর্ব করতে দেখিনি।”
(হিলইয়াতুল আওলিয়া আবী নুআঈম, ৯/১৮১, সনদ সহীহ)
রাবীঈ বিন খুছাইম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “প্রত্যেক সেই আমল যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হবে না, তা শূন্যে পরিণত হবে।”
(শুয়াবুল ইমান, বায়হাকী, হা/৬৪৮৬)
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সুফিয়ান আছ ছাওরী আমাকে বলেন, দুনিয়ার খ্যাতি, যশ, প্রসিদ্ধি থেকে সতর্ক থাকো। যাদের সাথেই আমি সাক্ষাৎ করেছি, সবাই আমাকে দুনিয়াতে প্রসিদ্ধি অর্জনে সতর্ক করেছেন।”
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী, ৭/২৬০)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন,
والإخلاص للّه أنْ يكون اللهُ هو مقصود المرْءِ ومراده، فحينئذ تتفجّر ينابيع الحكمة من قلبه على لسانه
“আল্লাহর জন্য ইখলাস হচ্ছে, ব্যক্তির উদ্দেশ্য এবং চাওয়া যেন শুধু আল্লাহর দিকেই হয়, এতে প্রজ্ঞার ফল্গুধারা হৃদয় থেকে প্রবাহিত হয় তাঁর মুখে।”
(আন নুবুওয়াহ, ১/৪০৯)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন,
"والقلب إنما خلق لأجل حب الله تعالى
“অন্তর তো আল্লাহ তাআলার মোহাব্বতের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।”
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১০/১৩৪)
❏ আখলাক ও আদব
• আখলাক
রাসুল (সা) বলেন, “কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্যে থেকে সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে কাছে বসার সৌভাগ্য লাভ করবে, যার আখলাক সবচেয়ে উত্তম।”
أقربكم مني مجلساً يوم القيامة أحسنكم خُلُقاً
(সহীহুল জামে, হা/১১৭৬)
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের মাঝে আখলাককে সেভাবে বন্টন করে দিয়েছেন, যেভাবে তোমাদের মাঝে রিযক বন্টন করেছেন।”
إنَّ اللَّهَ قسمَ بينَكم أخلاقَكم كما قسَّمَ بينَكم أرزاقَكم
(আদ দুয়া, মুহাম্মদ ইবনু ফুদ্বাইল আদ-দব্বী, ১/২৭৪,। আলবানী : সহীহ)
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহুমা বলেন, “আমি রাসুল (সা) এর চাইতে উত্তম চরিত্রের কাউকে দেখিনি, তাঁর মত লোকদের সাহায্যকারীও কাউকে দেখিনি, না তাঁর মত সাহসী ব্যক্তি কাউকে দেখেছি।”
ما رأيت أحدًا أجود، ولا أنجد، ولا أشجع من رسول ﷲ ﷺ
(ত্ববাকাতুল কুবরা, ইবনে সাদ, হা/১০৯৫; মাকারিমুল আখলাক, ৬/১১০)
ইমাম আবু হাতেম আর রাযী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সবচেয়ে বড় মুসিবত হচ্ছে অসৎ আচরণ।”
أعظم المصائب سوء الخلق
(রওদাতুল উক্বলা লি-ইবনে হিব্বান, পৃষ্ঠা : ১৪৬)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহকে নিজের বিরোধী পক্ষ ব্যক্তিদের সাথে খুব সুন্দর বন্ধুসুলভ আচরণ করতে দেখে তাঁর একজন কাছের সাথী বলতেন, হায়! যদি আমি আমার বন্ধুদের সাথে এমন সৌহার্দপূর্ণ হতে পারতাম, যেভাবে ইবনে তাইমিয়্যা তাঁর শত্রুদের সাথে হয়ে যান।”
(মাদারিজুস সালিকীন, ২/৩৪৫)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “একজন সৎ চরিত্রবান ব্যক্তির চেহারায় তাঁর মিষ্টতা ফুটে উটে এবং তাঁর অন্তর বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। যে তাঁর সঙ্গ লাভ করে, সে সহজে তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠে।”
قال ابن القيم رحمه الله: العفيف علىٰ وجهه حلاوة، وفي قلبه أُنْس، ومن جالسه استأنس به
(রওদাতুল মুহিব্বীন, ১/৩৬১)
হাসান আল বাসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “একজন ব্যক্তি ও তাঁর অপর ভাইয়ের মাঝে যদি কোনো গোপন বিষয় বিদ্যমান থাকে, তাহলে সে যেন তা (মানুষের কাছে) প্রকাশ না করে।”
من كان بينه وبين أخيه سِتْر فلا يَكشِفه
(মাকারিমুল আখলাক, ১/১৪৯)
ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, “কোন ব্যক্তির সালাত আর সিয়াম যেন তোমায় ধোকায় না ফেলে, প্রকৃত বিষয় হচ্ছে সে যখন কথা বলে সত্য বলে, আর আমানত দিলে তা পুরো ফিরিয়ে দেয়।”
لا تغرنكم صلاة امرئ ولا صيامه، ولكن إذا حدث صدق، وإذا اؤتمن أدى
(মাকারিমুল আখলাক, ইমাম খারাইত্বি, পৃষ্ঠা : ৫৫৬)
• আদব
এক ব্যক্তি ইমাম ওয়াকি ইবনুল জাররাহ রহিমাহুল্লাহকে গালি দেয়, কিন্তু তিনি তাকে প্রতিত্তোরে কোন জবাব দিলেন না।
কেউ একজন তাকে বললেন, আপনি কি তাকে জবাব দিবেন না?
তিনি বলেন, যদি গালির জবাব দিতে হয় তাহলে ইলম কেন অর্জন করেছি?
سبّ رجل الإمام وكيع؛ فلَمۡ يُجبه، فقيل له: ألا ترد عليه؟
قال: و لِمَ تعلمنا العلمَ إذاً؟
(রওদাতুল উক্কলা, পৃষ্ঠা : ১৬৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “নিশ্চয় প্রত্যেক মুআদ্দিব (শিষ্টাচার শিক্ষাদাতা) ভালোবাসেন যেন তার দেওয়া শিক্ষার উপর আমল করা হয়, আর নিশ্চয় আল্লাহর দেওয়া শিক্ষা হচ্ছে কুরআন মাজিদ।”
إِنَّ كُلَّ مُؤَدِّبٍ يُحِبُّ أَنْ يُؤْتَى أَدَبُهُ، وَإِنَّ أَدَبَ اللَّهِ الْقُرْآنُ
[ আবু উবাইদ কাসেম ইবনু সাল্লাম, ফাজায়িলুল কুরআন, পৃষ্টা ২১. দারেমি ফিস সুনান, ২/৪৩৩. ফাহামুল কুরআন লিল-হারেছ আল মুহাসিবী, পৃষ্ঠা ২৯৯ ]
ইমাম আওওয়াম রহিমাহুল্লাহ ইমাম মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন, “(নফল) সালাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছি, এই অবস্থায় মা ডাক দিলে কি করা উচিত? জবাবে তিনি বলেন, মায়ের ডাকে সাড়া দাও।”
قال العوام: سألتُ مجاهدًا: تُقَام الصلاة وتدعوني والدتي؟ قال: أجِب والدتك
(মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, হা/৮০৯৯)
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ইলম অর্জনে একমাস সময় দিলে, আদব শিখার জন্য দুইমাস সময় দাও।”
تعلموا العلم شهرا والأدب شهرين.
(মুজামুল উদাবা, ১/২৮)
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি ত্রিশ বছর আদব শিখেছি আর বিশ বছর ইলম হাসিল করেছি।”
طلبت الأدب ثلاثين سنة، وطلبت العلم عشرين سنة.
(غاية النهاية في طبقات القراء) لابن الجزري (১/ ৪৪৬)
ইমাম ফুদাইল বিন ইয়াদ্ব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমাদের নিকট শিষ্টাচারের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে, ব্যক্তি যেন তার নিজের মর্যাদা চিনে।”
رَأْسُ الْأَدَبِ عِنْدَنَا أَنْ يَعْرِفَ الرَّجُلُ قَدْرَهُ
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১০/১৬৮)
ইমাম হাতিম আল আসাম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “পাঁচটি বিষয় ব্যতীত কোন কাজে তাড়াহুড়ো করা শয়তানের কাজ। যে পাঁচটি কাজে শয়তান তাড়াহুড়ো করে না তা হল, যখন মেহমান আসে তাঁদের মেহমানদারি করা, খাবার খাওয়ানো, কারো মৃত্যু হলে তাঁর দাফন কাপনের দ্রুত ব্যবস্থা করা, যখন একটি মেয়ে কুমারী হয় অথবা বিয়ের উপযুক্ত হয় তাঁর দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনের সময় ঋণ পরিশোধ করা, কোন গুনাহ করলে দ্রুত তওবা করা।”
(হিলইয়াতুল আউলিয়া, আবু নুয়াঈম ৮/৭৮)
আমাশ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আহাম্মক লোকের সামনে নিরবতা পালন করাই জবাব।”
(রওদাতুল উক্বলা, ১২২)
❏ আমলে সলেহ ও সলীহুন
জনৈক লোক রসুল (সা) কে জিজ্ঞেস করলো, “হে আল্লাহর রসুল! ঈমান কী? তিনি বললেন, যদি তোমাকে নেক কাজ আনন্দ দেয় ও খারাপ কাজ পীড়া দেয়, তাহলে তুমি মু’মিন।”
أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ ﷺ مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ : إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ.
(সহীহুল জামে, ৩০০; আহমাদ, ২১৬৬২; সহীহুত তারগীব, ১৭৩৯)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সদাকাহ দেওয়া ব্যক্তি যদি জানে, তার সদাকাহ গরীবের হাতে পৌঁছার আগে আল্লাহর হাতে গিয়ে পৌঁছেছে, তাহলে সে ব্যক্তি সদাকাহ গ্রহণ করা ব্যক্তির চাইতে বেশি আনন্দিত হবে।”
لو علم المتصدق أن صدقه تقع في يد الله قبل يد الفقير لكانت لذة المعطي أكثر من لذة الآخذ
(মাদারিজুস সালেকীন, ১/২৬)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি নেক এবং উত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে চায় সে যেন প্রতিদিন মাখলুকের উপকার করার নিয়ত করে।”
(আল ঈমান আল আওসাত্ব, ৬০৯)
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সৎ আর নেক ব্যক্তি কোন সুগন্ধি ব্যবহার না করলেও তার থেকে খুব ভালো সুগন্ধ অনুভব করবে, কেননা রুহের খুশবো তার পোষাক এবং শরীর থেকে সুরভিত হয়।”
إن الرجل الطيب البر لتشمُّ منه رائحةً طيبةً وإن لم يمسَّ طيباً، فيظهرُ طيبَ رائحة روحه على بدنه وثيابه
(ওয়াবিলুস সাইয়িব, পৃষ্ঠা : ৪৩)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, “ততক্ষণ পর্যন্ত একজন মুমিনের কোন শান্তি নেই, যতক্ষণ না সে আল্লাহ সাথে সাক্ষাত করবে।”
لا راحة للمؤمن دون لقاء الله عز وجل
(আয যুহুদ লি-ইমাম আহমদ, ৮৫০)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “নফসের যাকাত হল নেক আমল বাড়িয়ে দেওয়া আর মন্দ আমল ছেড়ে দেওয়া, এবং তাযকিয়াতুন নফসের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হল মানুষের প্রতি ইহসান করা।”
زكاة النفس زيادة خيرها وذهاب شرها والإحسان إلى الناس من أعظم ما تزكوا به النفس
(মাজমুয়াল ফাতওয়া, ৭/২৯৯)
ইমাম ইবনুল জাওজী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ না করার অথবা চুপ থাকার জন্য এই অজুহাত দেখালে চলবে না যে, লোকজন গালাগাল দেয়, কেননা যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং সৎকাজের দিকে ডাকেন তাঁদের সাথে প্রায়শই এইটা হয়ে থাকে।”
فأما السبّ والشتم [الذي يلقاه الآمر بالمعروف والناهي عن المنكر من الناس] فليس بعذر في السكوت؛ لأن الآمر بالمعروف يلقى ذلك في الغالب
(আল আদাব আশ শরীয়াহ, ১/১৫৭)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কখনও কখনও একটি ছোট নেক আমলে এত ইখলাস ও সততা থাকে যে, এর মাধ্যমে অনেক বড় বড় গুনাহ মাফ হয়ে যায়।”
الحسنة الواحدة قد يقترن بها من الصدق واليقين ما يجعلها تكفر الكبائر
(মুস্তাদরাক আলা আল ফাতওয়া, ৩/৬৯)
বিশর ইবনুল হারিছ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “জশ বা খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে নেক আমল করো না, বরং নেক আমল এমনভাবে লুকিয়ে রাখো যেভাবে তোমার বদ আমল লুকিয়ে রাখো।”
لا تعمل لتُذكر، اكتم الحسنةَ كما تكتمُ السيئ
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/৪৭৬)
হাসান আল বাসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
فوالله لو كان ذلك القليل منهم لله لقبله , ولكن كان ذلك القليل منهم رياء
“আল্লাহর কসম তারা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে অল্প আমল করতো, তবুও আল্লাহ কবুল করে নিতেন। কিন্তু তারা এই অল্প আমলও লোক দেখানোর জন্য করতো।”
(তাফসিরে ইবনে আবী হাতেম, ৬১৪২, সনদ হাসান)
ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, “নেক আমল কি? জবাবে তিনি বলেন, যেই আমলের দ্বারা তুমি কারো নিকট নিজের প্রশংসার আশা পোষণ করো না।”
قيل لسفيان الثَّوري: ما العملُ الصَّالحُ؟
قال: ما لا تحبُ أن يحمدك عليه أحدٌ
(বাহজাতুল মাজালিস, ৩/৩৪৪)
ইমাম মালেক ইবনু দীনার রহিমাহুল্লাহ বলেন,
إن العالم إذا لم يعمل بعلمه زلت موعظته عن القلوب كما يزل القطر عن الصفا
“আমল করে না এমন আলেমের নসীহত মানুষের অন্তরে ঐভাবে পিছলে পড়ে, যেভাবে বৃষ্টির ফোঁটা পরিষ্কার বা সাদা পাথরের উপর পিছলে পড়ে।”
(ইক্বতিদাহ আল ইলমুল আমাল, পৃষ্ঠা : ৬১)
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি মসজিদে বসে অথবা গমন করে, সে মূলত আল্লাহর সাথে বৈঠক করে।”
مَن جلس في المسجد، فإنما يجالس ربه عزوجل
(ফাতহুল বারী, ইবনে রজব, ৪/৬১)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সুমধুর কন্ঠে কুরআন শোনা অন্তরের ভালোবাসা, কুরআনের বুঝ, আর তাদাব্বুরে কুরআনে সহায়ক হয়।”
سماعُ القرءَآن من صاحبِ الصوتِ الحَسن
ممَّا تحبُّه النفوسُ ويعينُ على التّدبر
(আল ইস্তিকামাহ, ১/৩৪২)
ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কোনো বিচক্ষণ মুমিনের উচিত নয় কখনো কোনো নেক আমলকে ছোট করে দেখা। কেননা অনেক সময় এই ছোট নেক আমলের দ্বারা গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”
وَلَا يَنْبَغِي لِلْعَاقِلِ الْمُؤْمِنِ أَنْ يَحْتَقِرَ شَيْئًا مِنْ أَعْمَالِ الْبِرِّ فَرُبَّمَا غُفِرَ لَهُ بِأَقَلِّهَا
(আত তামহীদ, ১২/২২)
ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যতটুকু সময় তুমি আল্লাহর আনুগত্য করেছ, সেই সময়টার হিসাব হল, তোমার আয়ুকাল, আর যতটুকু সময় তুমি আল্লাহর অবাধ্যতায় কাটিয়েছ, সেই সময়টা তুমি তোমার আয়ুকালের সাথে গণনা করো না।”
إنّ لك من عُمرِك ما أطَعْتَ اللَّهَ فِيهِ، فَأمَّا ما عصيتهُ فِيهِ فلا تَعُدّهُ لك عُمراً
(ইমাম বায়হাকী, আল কাবীর, ৩/২৪১)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যাকে আল্লাহ যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন, সে অনুযায়ী যদি সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের অনুসরণ, আনুগত্যে পরিশ্রম করে, তাহলে সে আহলে জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত।”
(মিনহাজুস সুন্নাহ, ৩/৫০৫)
ইমাম নববী (রহ) বলেন,
قراءة القرآن من المصحف أفضل من القراءة عن ظهر القلب ؛ لأن النظر في المصحف عبادة مطلوبة ، فتجتمع القراءة والنظر هكذا.
“মুখস্থ কোরআন পড়ার চেয়ে মুসহাফ থেকে দেখে তিলাওয়াত করা উত্তম। কেননা মুসহাফে নজর দেওয়াও একটি ইবাদত। যার ফলে দুটো ইবাদত একসঙ্গে পালন করার সুযোগ হয়ে যায়।”
(আত তিবইয়ান, পৃষ্ঠা : ৫৫)
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহিমাহুল্লাহ বলেন, العُـزلةُ عبـادةٌ “একা নির্জনে থাকাও ইবাদাত।”
(আল জারহু ওয়াত তাদীল, ১/১০৮)
আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী (সা) কে বললাম, কোন ব্যক্তি কেবল আল্লার সন্তুুষ্টি লাভের আশায় কাজ করে এবং লোকজন তার সেই কাজের জন্য তাকে ভালোবাসে? তিনি বলেন, এটা তো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য অগ্রীম (আখেরাতের সওয়াব তো পাবেনই, দুনিয়াতেই এর সুসংবাদ পেয়ে গেলো) সুসংবাদ।”
الرجلُ يعملُ العملَ للهِ فيُحبُّهُ الناسُ عليهِ قال رسول الله :ذلك عاجلُ بشرى المؤمنِ
(মুসনাদে আবী দাউদ আত ত্বায়ালিসী, ৪৫৬, সনদ সহীহ)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “হালাল রিযকের সন্ধান করা আর তা পরিবারের উপর খরচ করা নেক আমলের এমন একটা স্তর যার বিপরীতে অন্য কোন আমল মোকাবেলা করতে পারে না।”
طلبُ الحلال ، والنفقة على العيال ؛بابٌ عظيم لا يعدِلُه شيﺀٌ مِن أعمال البرِّ
(আল ইমান আল আওসাত্ব, পৃষ্ঠা : ৬০৯)
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ) বলেন, “এমন কোন আলিম, ভাল মানুষ ও নেক বান্দা নেই, যার কোন ভুলত্রুটি হয় না। কিন্তু কিছু এমন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের এ ধরনের ভুলত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়। যে ব্যক্তির নেক কাজের পরিমাণ বেশি, তার ভুল-ভ্রান্তিগুলো সেই নেক কাজের মাধ্যমে দূরীভূত হয়ে যায়।”
ليس من عالم ولا شريف ولا ذي فضل، إلا وفيه عيب ، ولكن من الناس من لا ينبغي أن تذكر عيوبه، ومن كان فضله أكثر من نقصه ذهب نقصه لفضله
(আত তামহীদ, ইবনে আব্দুল বার, ১১/১৬১)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “অনেক অসুস্থ ব্যক্তি কোন চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়েছেন, হয়তো দুয়া কবুলের মাধ্যমে অথবা কার্যকরী কোন রুকইয়াহ করানোর মাধ্যমে অথবা আল্লাহর উপর সঠিক তাওয়াক্কুলের সাথে দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে।”
كثير من المرضى يشفون بلا تداوٍ بدعوة مستجابة أو رقية نافعة أو قوة للقلب وحسن التوكل
(মাজমুয়াল ফাতওয়া, ২১/৫৬৩)
❏ সালাত
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, “এক ব্যক্তি ষাট বছর সালাত আদায় করে, কিন্তু তার এক ওয়াক্তের সালাতও কবুল হয় না। কারণ, সে শুদ্ধভাবে রুকু করলে শুদ্ধভাবে সিজদা করে না। আবার শুদ্ধভাবে সিজদা করলে শুদ্ধভাবে রুকু করে না।”
إن الرجل ليصلي ستين سنة وما تقبل له صلاة ؛ ولعله يتم الركوع ولا يتم السجود ، ويتم السجود ولا يتم الركوع.
(জাওয়াহিরু মিন আক্বওয়ালির রাসুল, ইয়াসির হামদানী, হা/৫৩৩; শাইখ আলবানী সিলসিলায় হা/২৫৩৫ এর সনদ হাসান বলেছেন)
ইমাম ইবনে রজব রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সালাফ সালেহীনের অভ্যাস ছিলো, সালাতের জন্য তাঁরা নিজের ঘরের কোণায় একটা নির্দিষ্ট জায়গা বানিয়ে রাখতেন।”
(ফাতহুল বারী, ইবনে রজব, ৩/৯৬১)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, “সালাত আদায়কারী ব্যক্তি (তার রবের) দরজার কড়া নাড়তে থাকে, আর যে বাদশাহর দরজায় কড়া নাড়তে থাকে খুব শীগ্রই তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়।”
المصلي يقرعُ باباً، ومن يُدِمْ قرع باب الملك يُوشك أن يفتح له
(আয যুহুদ লি-আবী দাউদ, ১৫৩)
তাবেঈ যুবাইদ আল আইয়ামি রহিমাহুল্লাহ বাচ্চাদের বলতেন, “এসো তোমরা সালাত আদায় করো, সালাত আদায় করলে আমি তোমাদের আখরোট খেতে দিবো। এটা বলার পর বাচ্চারা এসে সালাত আদায় করতো, সালাতের পর সবাই একসাথে ওনাকে ঘিরে ধরতো এবং বলতো, এবার আখরোট দেন। লোকজন বলেন, আপনি কি করতেন? তিনি বলেন, আমি আর কি করতাম, আমি ৫ দিরহাম দিয়ে আখরোট কিনে নিতাম আর এদের সালাতের অভ্যাস হয়ে যেতো।”
يا صبيان، تعالوا صلوا، أهب لكم الجوز، قال: فكانوا يجيئون ويصلون، ثم يحوطون حوله فقلنا له: ما تصنع بهذا؟ قال: وما علي؟ أشتري لهم جوزا بخمسة دراهم ويتعودون الصلاة
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৬৪৩১)
আলী রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম কথা হলো সিজদারত অবস্থায় বান্দার এ কথা বলা যে, ظلمتُ نفسي .فاغفر لي নিজের উপর জুলুম করেছি, আমাকে ক্ষমা করুন।”
(মুছান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, ২৯৮৪২)
❏ জিহাদ
রাসুল (সা) উহুদ প্রান্তরে শহীদ হওয়া সাহাবিদের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, “হায়! যদি আমাকেও তারা আমার সাহাবাদের সঙ্গে পাহাড়ের উঁচুতে শহীদ করে দিতো।”
أما والله لوددت أني غودرت مع أصحاب نحص الجبل
(মুসনাদে আহমদ, ২৩/২৬৯, শোয়েইব আরানাউত : হাসান)
“আহলে সুন্নাত সবসময় হজ্ব, জিহাদ, জুমআ, আর দুই ঈদ নিজ দেশের শাসকের সাথেই আদায় করে আসছে, সেটা যেমনই হোক।”
(আকিদাতুস সালাফ, ইমাম সাবুনী, ১৯; আল হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ, ১/২৩৫)
ইবনে শাদ্দাদ যিনি সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবীর উস্তাদ ছিলেন, তিনি লিখেন, “(যখন সালাউদ্দিন আইয়ুবী বায়তুল মাকদাস বিজয় করেন) মিশর, শাম থেকে সমস্ত আলেম উলামা বায়তুল মাকদাস পৌছেন। এমন কোন পরিচিত আলেম ছিলেন না, যিনি সেখানে উপস্থিত হননি। আওয়াজ উঁচু হয়ে গিয়েছিলো দোয়ার মাধ্যমে। বলিষ্ঠ কন্ঠ, কালেমায়ে তাওহীদ ও তাকবীরে তুফান সৃষ্টি হয়েছিলো।”
قصده العلماء من مصر ومن الشام بحيث لم يتخلف معروف من الحضور، وارتفعت الأصوات بالضجيج والدعاء والتهليل والتكبير، وخطب فيه
(আন নাওয়াদির আস সুলতানিয়্যাহ ওয়াল মাহাসিন আল ইউসুফিয়্যাহ, ১/৫৪)
❏ আল ওয়ালা আল বারা
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “আহলুস সুন্নাহ কখনো আহলে বিদাতিদের উপর কুফফারদের কতৃত্ব চায় না।”
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ৬/৩৫৭)
শাইখ ড. রাবী বিন হাদী আল মাদখালী হাফিযাহুল্লাহ বলেন, “যদিও আমরা আশআরী, সুফি এবং অন্যান্যদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করি এবং তারাও আমাদের প্রতি ঘৃণা রাখে, কিন্তু ইহুদি এবং নাসারা যদি তাদের উপর অত্যাচার করে, তখন আমরা তাদের দিফা করবো আর দুশমনদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করবো।”
(শরহুস সুন্নাহ ইমাম বারবাহারী, ২/৯৮১)
তারেক ইবনু শিহাব বর্ণনা করেন, “খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ আর সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের মাঝে কোন বিষয় নিয়ে ঠুনকো দ্বিমত হয়, এক ব্যক্তি সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের সামনে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের গীবত করতে চাইলে তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেন, সাবধান করছি ভালো হয়ে যাও। পারষ্পরিক বিষয় কখনো আমাদের দ্বীনি ভ্রাতৃত্বে আঁচ আসবে না।”
كان بين خالد بن الوليد وبين سعد ( بن أبي وقاص ) كلامُ. قال : فَتَنَاوَلَ رَجُلٌ خَالِدًا عند سَعْدٍ .قال : فقال سعد : مَهْ ، فإن ما بيننا لم يَبْلُغْ دِينَنَا
(মুসান্নাফ ইবনু শাইবাহ, হা/২৬০৪৮; মু'জামুল কবীর, ইমাম তাবারানী, হা/৩৮১০, সনদ সহীহ)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “নিশ্চয়ই অনেক বিদআতি মুসলমান, রাফেজী, জাহমিয়া এবং অন্যান্যরা কাফেরদের এলাকায় সফর করেছিলো, আর তাদের হাতে অধিক সংখ্যক কাফের ইসলাম গ্রহণ করে এবং ইস্তেফাদা হাসিল করে। যেসব লোক ইসলাম গ্রহণ তারাও বিদআতি মুসলমানে পরিণত হয়, তবে এটা কাফের হয়ে থাকার চাইতে উত্তম।”
وقد ذهب كثير من مبتدعة المسلمين من الرافضة والجهمية وغيرهم إلى بلاد الكفار فأسلم على يديه خلق كثير , وانتفعوا بذلك , وصاروا مسلمين مبتدعين , وهو خير من أن يكونوا كفارا
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১৩/৯৬)
শাইখুল আরাবী আত তিবিসসী আল মালেকী (মৃত্যু : ১৩৭৬ হিজরি) (রহ) বলেন, “যারা বেঁচে থাকবে তারা যেন ফ্রান্সের শত্রুতায় বেঁচে থাকে, আর যারা মৃত্যুবরণ করবে তারা যেন এই শত্রুতা কবরে সাথে নিয়ে যায়।”
من عاش فليعش بعداوة فرنسا ومن مات فليحمل معه هذه العداوة إلى القبر.
(তারিখ আয যাযায়ের, ১৫৮)
ইমাম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল মউসুলি আশ শাফেঈ (রহ) বলেন, “অমুসলিমদের ভালো গুণগুলোর সবগুলোই মুসলিমদের মধ্যে রয়েছে, বরং তার চাইতে অনেক বেশি এবং উত্তম গুণাবলিতে মুসলিমরা গুণান্বিত। অপরপক্ষে মুসলিমদের মন্দ স্বভাবগুলোর প্রত্যেকটিই রয়েছে অমুসলিমদের মাঝে এবং তার চাইতেও অনেক বেশি মন্দ তাদের মাঝে বিদ্যমান।”
فما من فضل يوجد في غير هذه الأمة إلا وهو في الملة الإسلامية أفضل وأكمل، ولا عيب يوجد في بعضهم إلا وهو في غيرهم أفحش
(হাসান আস সুলুক আল হাফিয দাউলাতুল মুলুক, ১৬৪)
❏ কুর‘আন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা
শাইখ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উসাইমিন রহিমাহুল্লাহ বলেন,
“কুরআন হচ্ছে সবচেয়ে বড় ওয়াজকারী। আল্লাহ এর মাধ্যমে অন্তরসমূহকে নসীহত করেন। কিন্তু যদি এই কুরআন পাথরের মতো শক্ত এমন কোন অন্তরের উপর অবতীর্ণ হয় (আল্লাহর কাছে পানাহ চাই), তখন এটা ওই অন্তরকে নরম তো করেই না বরং এর কঠোরতা আরো বাড়ায়।”
القرآن أعظم واعظ، يعظ الله به القلوب، لكنه إذا ورد على قلوب كالحجارة والعياذ بالله؛ فإنها لا تلين ولكنها تزداد صلابة.
(শরহু রিয়াদ্বুস স্বলীহিন, ৩/৩৪৪)
ইমাম আব্দুল আজিজ বিন বায রহিমাহুল্লাহ বলেন, “পুরো এলাকায় অধিকাংশ মানুষ এই আমল (অথবা আকিদা) করছে (অথবা অনুসরণ করছে), এই চিন্তা যেন কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে ধোঁকায় না ফেলে। কেননা হক্ব বা সত্য লোকদের আধিক্য দেখে নয় বরং শরঈ দলিলের দ্বারা জানতে হয়।”
ولا ينبغي للعاقل أن یغتر بکثرة من یفعله من الناس في سائر الأقطار، فإن الحق لا يعرف بکثرت الفاعلین وإنما یعرف بالأدلة الشرعیة
(আত তাওহীদ ওয়ামা ইউলহাক্বু বিহী, পৃষ্ঠা : ২২৬)
ইমাম ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ বলেন, “লোকজন নসের উপর ঐক্যমত পোষণ করুক অথবা এর বিরোধিতা করুক, তবুও নসের ইত্তেবা করা ফরজ। এর অনুসরণের ক্ষেত্রে লোকদের ঐক্যমত পোষণ করে নেওয়া নসের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না (বরং নসের ইত্তেবা শুরু থেকেই ওয়াজিব)। আর লোকের ইখতেলাফ করা নসের ইত্তেবার অপরিহার্যতায় কোনরূপ ঘাটতিও হয় না, বরং হক্ব হক্বই থাকবে যদিও সেখানে ইখতেলাফ হোক। আর বাতিল বাতিলই থাকবে, যদিও বাতিল বলা লোকজন বেশি হোক।”
(আল ইহকাম লি-উসুলিল আহকাম, ৪/১৪১)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আকিদায় আমার বিরুদ্ধাচরন করছেন, আমি তিন বছরের সময় দিচ্ছি, কুরুনে ছুলাছা থেকে শুধুমাত্র একটা হরফ নিয়ে আসুন, যা আমার বলা কথার বিরোধী, আমি রুজু করে নিবো।”
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ৩/১৯৬)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি ধারণা করে সাহাবায়ে কেরামদের অনুসরণ আর তাদের অনুসৃত পথ বাদ দিয়ে কুরআন এবং সুন্নাহর বুঝ গ্রহণ করবো, তাহলে ওই ব্যক্তি বিদাতিদের অন্তর্ভুক্ত।”
من ظنَّ أنَّهُ يأخُذُ من الكتابِ والسنَّةِ بدونِ أن يقتَدي بالصحابةِ، ويتَّبِع غيرَ سبيلِهم ؛ فهوَ من أهلِ البدع
(মুখতাসার ফাতাওয়া আল মিসরিয়্যাহ, ৫৫৬)
ইমাম মুহাম্মদ ইবনু কা’ব আল কুরাজী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে থাকে, তার বয়স দুইশো বছর হোক না কেন, তবুও তার ধীশক্তি নিরাপদ থাকে।”
من قرأ القرآن مُتِّع بعقله وإن بلغ من العمر مائتي سنة
(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৯/২৭০)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “বক্তা পাপী কিংবা যিনদীক্ব হোক না কেন, যদি কথা কুরআন এবং সুন্নাহ সম্মত হয় তা কবুলযোগ্য, অন্যদিকে বক্তা সৎ বরং সত্যবাদী হোক না কেন, যদি তা কুরআন এবং সুন্নাহর বিপরীতে হয় তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত।”
فما وافق الكتاب والسنة يُقبل. وإن كان قائله فاجرا زنديقا وماخالفه فهو باطل وإن كان قائله صالحا بل صديقا
(জামেউল মাসায়েল, ৭/৪৬২)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আর রইলো আকিদার বিষয়, সেটা তো আমার কাছ থেকে নেওয়া হয় না, আর না আমার বড়দের থেকে নেওয়া হয়। বরং তা তো আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের কাছ থেকে নেওয়া হয়, যেই বুঝের সাথে সালাফদের ইজমা রয়েছে, সেখান থেকে নেওয়া হয়।”
أما الاعتقاد: فلا يؤخذ عني ولا عمن هو أكبر مني؛ بل يؤخذ عن الله ورسوله وما أجمع عليه سلف الأمة
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ৩/১৬১)
ইমাম আবুল কাসেম আল আসবাহানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সালাফদের এভাবে বলা যে অমুক সুন্নতের উপর রয়েছেন বা তিনি আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, এর অর্থ এই যে, ক্বওল এবং আমলে তিনি আল্লাহর ওহী এবং আছার (কোরআন এবং সুন্নত, সাহাবাদের আছার) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।”
قولهم " فلانٌ على السنة ومن أهل السنة " أي موافقٌ للتنزيل والأثر في الفعل والقول.
(আল হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ, ৬/৪১১)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যখন বান্দা আল্লাহর স্বরণাপন্ন হয়, আল্লাহর কাছে দোয়া করে আর কোরআন এবং হাদিসে গভীর মনোনিবেশ করে, সাহাবা ও তাবেঈন এবং আইম্মায়ে মুসলিমিনদের কথার উপর নজর দেয়, তাহলে তার জন্য হেদায়েতের রাস্তা খুলে যায়।”
إذَا افتَقَرَ العَبْدُ إلى اللَّهِ ودَعَاهُ، وأدمَنَ الـنَّـظَـرَ في كَلامِ اللَّهِ ، وكَلامِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم ، وكَلامِ الصحَابةِ والتَابِعِين وأئِمَّةِ المُسلِمِينَ انفَتَحَ لَهُ طَرِيقُ الهُدَى
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ৫/১১৮)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আল্লাহ ১০৪টি কিতাব নাজিল করেছেন। অতঃপর সমস্ত কিতাবের ইলম চারটি কিতাবে বর্ণনা করেছেন। তারপর ঐ চারটি কিতাবের ইলম কোরআনে বর্ণনা করেছেন। এরপর পুরো কোরআনের ইলম সুরা ফাতিহাতে বর্ণনা করেছেন। আর সুরা ফাতিহার ইলম একই সুরার একটি আয়াতে বর্ণনা করে দিয়েছেন। আয়াতটি হলো, আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
أن الله أنزل مائة كتاب وأربعة كتب جمع علمها في الكتب الأربعة وجمع الكتب الأربعة في القرآن وجمع علم القرآن في فاتحة الكتاب وجمع علم فاتحة الكتاب في قوله تعالى: إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
(মাজমুয়াল ফতোয়া, ২২/৬০৭)
আল্লামা ইহসান ইলাহী জহির রহিমাহুল্লাহ বলেন, “উম্মতের ঐক্যর সেইসব চিন্তাধারা, পদ্ধতি ইসলাম বিরোধী কিংবা বাতিল যেখানে কিতাব এবং সুন্নাহর অনুসারে সহীহ আকিদা আর মানহাজের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ইখতেলাফ মিটানোর শুধুমাত্র একটাই উপায় হচ্ছে, আকিদা এবং মানহাজকে কিতাব এবং সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ (সা) এর পদ্ধতি অনুযায়ী ধারণ করা।”
(আশ শিয়া ওয়া সুন্নাহ, পৃষ্ঠা : ১৩)
❏ সবর, শোকর ও নিয়ামত
• সবর
নাবী (সা) বলেন, “সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মায়ের পেটে মারা যাওয়া সন্তান তার মাকে নাভিরজ্জু দ্বারা টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে, যদি তার মা সওয়াবের নিয়তে সবর করে।”
والذي نفسي بيده إن السقط ليجر أمه بسرره إلى الجنة إذا احتسبته
(আত তারগীভ ওয়াত তারহীভ, ৩/৫৭, ইমাম মুঞ্জিরী হাসান বলেছেন; আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা : ৩৯, আলবানী : সহীহ)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, “দুনিয়াতে এতো দুঃখ কষ্ট পেরেশানি, মানুষ শান্তি কখন পাবে? জবাবে তিনি বলেন, জান্নাতে যেইদিন প্রথম পা রাখবে সেইদিন।”
(তবাক্বাতুল হানাবিলা, ১/২৯১)
ইমাম ইবনে রজব (রহ) বলেন, “সবরের সৌন্দর্য হচ্ছে ব্যক্তি যেন মুসিবতকে গোপন করে এবং কাউকে সেটা জানতে না দেয়।”
والصبر الجميل هو أن يكتم العبد المصيبة ولا يُخبر بها
(নূর আল ইক্বতিবাস, পৃষ্ঠা : ৯০)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “বিপদ আপদ (আল্লাহর দেওয়া পরীক্ষা) ছাড়া উচ্চ মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব নয়।”
والمنازلُ العالِيةُ لا تُنالُ إلَّا بالبلاءِ
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ২৫/৩০২)
ইমাম ইবরাহিম মাগরিবী (রহ) বলেন, “দুনিয়াতে যদি দুঃখ, দূর্দশা না থাকতো তাহলে আমরা আখিরাতে দেউলিয়া হয়ে উঠতাম।”
(হিলইয়াতুল আউলিয়া, ১২/১৬৪)
সালাফ সালেহীনগণ একজন আরেকজনকে আশা ভরসা দিতেন, উৎসাহ দিতেন, বলতেন, “এইতো সামান্য কিছু দিন মাত্র, আসল ঠিকানা তো জান্নাত।”
إنما هي أيام قلائل والموعد الجنة
(সিফাতুস সফওয়া, ইবনুল জাওযী, ১/১২২)
• শোকর
মালেকি ফক্বীহ মুহাদ্দিস ইমাম আবু মুতারিফ আল কুনাজিঈ আল কুরতুবি (রহ) বলেন, “আমি একবার মিশরে ঈদ পালন করলাম, লোকজন ঈদের নামাজের পর নিজেদের জন্য যা প্রস্তুত করেছে, সেখানে চলে গেলো আর আমি নীল নদের কিনারায় গিয়ে বসলাম। সেদিন আমার কাছে শুধুমাত্র ترمس (শিমের একটি প্রকার) ছাড়া খাওয়ার জন্য কিছুই ছিলো না। আমি সেখানে বসে ترمس খেতে লাগলাম আর খোসা নিচে ফেলতে লাগলাম আর ভাবনায় পড়ে গেলাম, হায়! আজ মিশরে আমার চাইতে বেশি খারাপ বা কষ্টকর ঈদ কি কেউ পালন করছে? যখন আমি ভাবনা থেকে নিজের মাথা ওঠালাম, দেখলাম একজন লোক আমার ফেলে দেওয়া খোসা তুলে খাচ্ছে! আমি তখনই বুঝতে পারলাম এটা আল্লাহর তরফ থেকে আমার জন্য সতর্কবার্তা, আমি সাথে সাথেই আল্লাহর শোকর আদায় করে নিলাম।”
"كنت بمصر وشهدت العيد مع الناس، فانصرفوا إلى ما أعدوه وانصرفت إلى النيل، وليس معي ما أفطر عليه إلا شيء من بقية ترمس بقي عندي في خرقة، فنزلت على الشط، وجعلت آكله وأرمي بقشره إلى مكان منخفض تحتي، وأقول في نفسي: ترى إن كان اليوم بمصر في هذا العيد أسوأ حالاً مني؟ فلم يكن إلا ما رفعت رأسي وأبصرت أمامي، فإذا برجل يلقط قشر الترمس الذي أطرحه ويأكله، فعلمت أنه تنبيه من الله عز وجل، وشكرته."
(আল মুগরিব ফী হুলা আল মাগরিব, ইবনে সাঈদ আল মাগরিবী আল আন্দালুসি, ১/১৭১)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “আল্লাহর নিয়ামতের শোকর এবং তাঁর আনুগত্য প্রকাশের জন্য যে ব্যক্তি সুন্দর পোষাক পরিধান করবে, সে ব্যক্তি নেকি হাসিল করবে।”
من لبس جميل الثياب إظهارا لنعمة الله واستعانة على طاعة الله كان مأجورا
(মাজমুয়াল ফাতওয়া, ২২/১৩৯)
• নিয়ামত
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “দুইটা কারণে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত বান্দা থেকে তুলে নেন, আল্লাহর ভয় ছেড়ে দেওয়া, আর লোকদের সাথে অসদাচরণ করা।”
سلب النعم يعود إلى أمرين : ترك تقوى الله ، والإساءة إلى الناس .
[ আহকাম আহলুল জিম্মাহ, ১/৮৮ ]
ইমাম আবু হাজম (রহ) বলেন, “প্রত্যেক সেই নেয়ামত যা আল্লাহর নিকটবর্তী করে না বস্তুত তা মুসিবত।”
كل نعمة لا تقرب من الله فهى بلية
(কিতাব আশ শোকর, ইবনে আবীদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা : ৬০)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেছেন,
فليس كل إنعام كرامة ، ولا كل امتحان عقوبة.
“সকল নেয়ামতই পুরষ্কার নয়, আবার পরীক্ষা (পেরেশানি) মাত্রই আযাব নয়।”
(মাজমূ‘উর রাসাইল ওয়াল মাসাইল, ১/৬৩)
❏ গুনাহ, অবাধ্যতা ও গাফিলতি
বিলাল ইবনু সাদ (রহ) বলেন, “গুনাহ কতটা ছোট তা দেখো না, বরং এটা দেখো যার (আল্লাহর) অবাধ্যতা করছো তিনি কত বড় (বড়ত্ব)।”
لا تنظر إلى صغر الخطيئة، ولكن انظر إلى عظمة من عصيت
(মুখতাসার মিনহাজুল কাসিদীন, ২৫৮)
ইমাম মালিক (রহ) বলেন, “আমি আল্লাহর কিতাব এবং রাসুলের সুন্নাহ পর্যবেক্ষণ করে সুদের চাইতে নিন্দনীয় আর কোন কিছু পাইনি। কেননা এর বিরুদ্ধে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।”
إني تصفحت كتاب الله وسنة نبيه ، فلم أر شيئاً ( أشرّ ) من الربا،
(তাফসিরে কুরতুবি, ৪/৪০৫)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “মানুষের অন্তরটা জমিনের মতই, জমিন যেমন পানি না পেলে শুকিয়ে যায়, অন্তরও তেমনি শুকিয়ে যায়, যখন আল্লাহর তাওহীদ, তাঁর পরিচয়, তাঁর ভালোবাসা এবং জিকির শূন্য থাকে।”
"القلب كالأرض إنما ييبس إذا خلا من توحيد الله وحبه ومعرفته وذكره ودعائه"
(আসরার আস সালাত, পৃষ্ঠা : ৬০)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “সমস্ত মন্দ কাজের গোড়া হচ্ছে অজ্ঞতা এবং যুলুম, যেমনটা আল্লাহ বলেন, আর মানুষ তা বহন করল; সে অত্যন্ত যালিম, খুবই অজ্ঞ (আহযাব, ৭২)।”
والجهل والظلم هما أصل كل شر، كما قال سبحانه: وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا
(ইক্তেদা আস সিরাতুল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা : ১৪৮)
“ওই ব্যক্তির উপর জুলুম করার ব্যাপারে ভয় করো, যার কাছে জুলুমের জবাবে দুই চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই থাকে না।”
خافوا من ظلم من لا ينتصر من ظلمه إلا بدمع عينيه.
(আত তিবরুল মাসবুক ফী নসীহাতিল মুলুক লিল-গাজ্জালী, পৃষ্ঠা : ৮২)
ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী (রহ) বলেন, “যদি তুমি শির্ক ছাড়া হাক্কুল্লাহ (আল্লাহর হক) সম্পর্কিত সত্তর গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সামনে যাও, তাহলে সেগুলো ওই একটি গুনাহ থেকে তোমার জন্য সহজ হবে যা হাক্কুল ইবাদের (বান্দার হক) সাথে সম্পর্কিত।”
ان لقيت الله تعالى بسبعين ذنبا فيما بينك وبين الله تعالى دون الشرك أهون عليك من ان تلقاه بذنب واحد بينك وبين العباد
(তানবীহুল গাফিলীন, ১/৩৮০)
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ) বলেন, “গুনাহ অন্তরের উপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, যেমন কাপড়ের উপর তেল (পড়া), যদি তাড়াতাড়ি একে ধুয়ে ফেলা না যায়, তাহলে তা ছড়িয়ে যেতে থাকে।”
وُقُوعُ الذَّنْبِ عَلَىٰ الْقَلْبِ كَوُقُوعِ الدُّهْنِ عَلَىٰ الثِّيَابِ إِنْ لَمْ تُعَجِّلْ غَسْلَهُ، وَ إِلَّا اِنْبَسَط
(আল মুদহিশ, পৃষ্ঠা : ৩৫৭)
ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী (রহ) বলেন, “ক্রুদ্ধতা এবং রাগ থেকে বেচে থাকো, এসব পাপের দিকে নিয়ে যায়, আর পাপ জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যায়।”
اياك والحدة والغضب، فانهما يجران الى الفجور، والفجور يجر الى النار
(তাযকিরাতুল হামদুনিয়া, ১/২২০)
سُئل سُفيانُ بن عُيينة عَن غَمٍّ لا يُعرفُ سببُه؟ قال:
هو ذنبٌ همَمْتَ به في سرِّك ولم تَفْعَلْهُ ؛فجُزيتَ همّاً به
“ইমাম সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহ) কে এমনই কষ্টের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়, যার কারণ অজ্ঞাত। তখন জবাবে তিনি বলেন, এই কষ্টের কারণ হতে পারে এমন গুনাহ যার তুমি ইরাদা (মনস্থ) করছো কিন্তু আমল করোনি, গুনাহের ইরাদার কারণে তোমাকে এই কষ্ট প্রদান করা হয়েছে।”
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “গুনাহের শাস্তি হয়ে থাকে, গোপন গুনাহের গোপন শাস্তি, প্রকাশ্য গুনাহের প্রকাশ্যে শাস্তি।”
فالذّنوبُ لها عُقُوباتٌ:السّرُّ بالسّرِّ، والعَلانِيةُ بالعَلانِيَةِ
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১৪/১১১)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “মানুষের জন্য এর চাইতে অধিকতর মন্দ কিছু হতে পারে না, সে দ্বীনের গুরুত্ব, উপকারী জ্ঞান এবং নেক আমল থেকে গাফেল থাকবে।”
" لا شيء أقبحَ بالإنسان مِنْ أنْ يكونَ غافلاً عن الفضائلِ الدينِّية ، والعُلومِ النَّافِعةِ ، والأعمالِ الصَّالِحةِ "
(মিফতাহ দারিস সাআদাহ, ১/১৭৭)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “যদি তুমি নিজের ভাইকে গুনাহ করতে দেখো, তখন এমন কথাবার্তা বলে তার বিরুদ্ধে শয়তানের সাহায্যকারী হইয়ো না যে, আল্লাহ তাকে বেজ্জত করুন, তাকে ধ্বংস করে দেন। বরং তার জন্য দোয়া চেয়ে বলো, আল্লাহ তাকে তওবা করার তৌফিক দান করুন, তাকে ক্ষমা করে দেন।”
إذا رأيتم أخاكم قارف ذنبا فلا تكونوا أعوانا للشيطان عليه، تقولوا: أخزاه الله، قبحه الله، ولكن قولوا: تاب الله عليه، غفر له"
(মাকারিমুল আখলাক ইমাম তবারানী, ৩৫; আয যুহুদ লি-ইবনুল মুবারক, ৮৯৬)
ইমাম ইবনে মুফলিহ (রহ) বলেন, “জগড়া করতে গিয়ে কত মানুষ (রাগের বশে) খারাপ কথা বলে, গালিগালাজ করে, তালাক পর্যন্ত দিয়ে দেয়। অথচ অধিকাংশ মানুষ এর পরিণতি কি হবে, তা চিন্তা করে না। কিন্তু যখন হুশ আসে তখন তার কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়।”
أكثر الناس لا ينظرون في العواقب، فكم من مُخاصم سبّ وشتم وطلّق، فلما أفاق ندم.
(আল আদাব আশ-শরীয়াহ, ১১)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “এটা তোমাদের গুনাহের বোঝা, যেই গুনাহ তোমাদের রাতে আল্লাহর সামনে দাড়াতে দেয় না।”
(আত তাহাজ্জুদ ওয়া কিয়ামুল লাইল লি-ইবনে আবীদ দুনইয়া, ২২২)
ইমাম হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (রহ) বলেন, “লানত কোনো কালো রঙ নয়, যা চেহেরায় দেখা যায়। বরং লানত হচ্ছে তুমি কোন একটি গুনাহ থেকে এখনো বের হতে পারোনি, অথচ অন্য আরেকটি গুনাহে পতিত হয়েছো।”
ليست اللّعنة سوادَا يُرى في الوجه ، إنّما هي ألاَّ تخرُج من ذنْب إلاّ وقعتَ في ذنب
(আল উকূবাহ লি-ইবনে আবীদ দুনইয়া, পৃষ্ঠা : ৯৬)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “যে নিজের নফসকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যস্ত রাখেনা, তার নফস কোন নিয়ত ছাড়াই শয়তানের আনুগত্য করতে থাকে, কেননা কোন না কোন আমলে ব্যস্ত থাকা নফসের জন্য জরুরি।”
مَن لم يستعمل نفسه في عبادة الله استعملها بغير اختياره في طاعة الشيطان؛ إذ النفس لابد لها من عمل
(জামেউল মাসাইল, ৮/২২৮)
ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী (রহ) বলেন, “শয়তানের কাছে মানুষকে অভাব অনটনের ভয় দেখানো ছাড়া অন্য কোন অস্ত্র নেই। যখন মানুষের অন্তরে দারিদ্র্যতার ভয় চলে আসে, তখন সে হক্ব থেকে দূরে সরে যায়, নিজের স্বার্থ অনুযায়ী কথা বলা শুরু করে, আর রবের উপর আস্থাহীন হয়ে পড়ে।”
ليس للشيطان سلاح للإنسان مثل خوف الفقر، فإذا وقع في قلب الإنسان منَعَ الحق وتكلم بالهوى وظن بربه ظن السوء
(আল মুগনী আন হামলিল আসফার ফীল আসফার, হাফেজ ইরাকী, ৪/৩২)
আবু বকর সিদ্দিক (রা) বলেন, “যেই জাতি মন্দ কাজের প্রচার প্রসার করে, আল্লাহ সেই জাতির উপর বিপদ-আপদ (পরীক্ষা, আযাব, ফিতনা) বৃদ্ধি করে দেন।”
لاتشيع الفاحشة في قوم قط إلا عمهم الله بالبلاء۔
(সীরাতে ইবনে হিশাম, ১১৩৮, সনদ সহীহ)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “গায়রে মাহরামের সাথে প্রেম এতটাই ভয়ানক, যার হিসাব আল্লাহ ব্যাতিত আর কারো দ্বারা করা সম্ভব নয়। আর এটা এমন একটি রোগ যা, (প্রথমে) তাদের দ্বীন, তারপর বিবেক, তারপর শরীরকে কলুষিত করে দেয়।”
عشق الأجنبية فيه من الفساد ما لا يحصيه إلا رب العباد ،وهو من الأمراض التي تفسد دين صاحبها ،ثم قد تفسد عقله ثم جسمه
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১০/১৩২)
ইমাম মুহাম্মদ ইব্রাহিম ইবনু আদহাম (রহ) বলেন, “প্রত্যেক শাসক যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, সে ডাকাত সমতূল্য। প্রত্যেক আলেম যে তাক্বওয়া অবলম্বন করতে পারে না, সে হিংস্র নেকড়ে সমতুল্য। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যে গাইরুল্লাহর সামনে নত করে, সে কুকুর সমতূল্য।”
كل ملك لايكون عادلاً فهو واللص سواء ، وكل عالم لا يكون تقياً فهو والذئب سواء ، وكل من ذل لغير لله فهو والكلب سواء
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৭/৩৯৭)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “যখন গুনাহের বোঝে পিট ভারী হয়ে যায়, তখন অন্তর আল্লাহর আনুগত্য করার এবং শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ তাঁর দিকে ঝুঁকার প্রতি বাধা দেয়।”
إذا ثقل الظهر بالأوزار، منع القلب من السير إلى الله والجوارح من النهوض في طاعته
(বাদাইউত তাফসির, ৩/৩৩২)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “আইম্মায়ে আরবা বা চার মাযহাবের মত হচ্ছে গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র, ঢোল বাজানো, তাস খেলা ইত্যাদি সবকিছু হারাম।”
مذهب الأئمة الأربعة أن آلات اللهو كلها حرام
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১১/৫৭৬)
ইমাম ইবন আল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “ইবনে আব্বাস আরাফাতের ময়দানে ছিলেন, এ সময় তার কাছে এক যুবককে নিয়ে আসা হলো, সে এতোই রোগা ছিলো যে তার শরীরের মাংস হাড্ডির সাথে লেগে গিয়েছিল। ইবনে আব্বাস জিজ্ঞেস করলেন, কী হল ওর? বলা হলো, সে প্রেমে পড়েছে। এরপর ইবনে আব্বাস সারাটা দিন প্রেম থেকে পানাহ চাইলেন।”
وقد رفع إلى ابن عباس وهو بعرفة شاب قد انتحل حتى عاد جلدا على عظم؛ فقال: ما شأن هذا؟ قالوا: به العشق، فجعل ابن عباس يستعيذ من العشق عامة يومه
(আদ দা ওয়াদ দাওয়া, পৃষ্ঠা : ৩০৩)
ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী (রহ) বলেন, “মানুষের এমন একটা সময় আসবে যখন, তাদের অন্তর মরে যাবে, শুধু শরীরটা জীবিত থাকবে।”
يأتي على الناس زمانٌ، تموت فيه القلوب ، وتحيا فيه الأبدان
(হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৭/৮২)
ইয়াহইয়া ইবনে মুয়াজ (রহ) বলেন, “দূর্ভাগা আদমের বংশধর! তারা যেভাবে দারিদ্রতাকে ভয় করে, সেভাবে যদি জাহান্নামকে ভয় করত,তবে তাঁরা জান্নাতে প্রবেশ করত।”
مسكين ابن آدم. لو خاف النار كما يخاف الفقر دخل الجنة.
(তারিখ বাগদাদ, ১৪/২১৫)
“একজন মুমিন অল্প কথা বলে, কিন্তু আমল বেশি করে, আর একজন মুনাফিক কথা বেশি বলে কিন্তু আমল কম করে।”
المؤمن قليل الكلام كثير العمل، والمنافق كثير الكلام قليل العمل
(শুয়াবুল ঈমান, বায়হাকী)
জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ আল বাজলী (রহ) বলেন, “যে ব্যক্তি অন্যকে নসীহত করে কিন্তু নিজেকে ভুলে যায় অথবা নিজেকে তাতে শামিল না করে তার উদাহরণ সেই প্রদীপের মত যে নিজেকে জ্বালায় কিন্তু আলো দেয় অন্যদের।”
إن مثل الذي يعظ الناس وينسى نفسه كالمصباح يحرق نفسه ويضيء لغيره
(জামিঈ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদ্বলিহ, ১/৬৭৪)
আবু বকর বিন আয়াশ (রহ) বলেন, “কারো একটা টাকা হারিয়ে গেলে সারাদিন সে বলতে থাকে, ইন্না-লিল্লাহ! আমার একটা টাকা অপচয় হয়ে গেলো। অথচ তাঁর বয়স প্রতিদিনই বাড়ছে, কিন্তু কখনো সে আফসোস করে বলে না, ইশ! আমার সময়টা ফুরিয়ে আসছে।”
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৩০৩)
হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, মুনাফিক কে? উত্তরে তিনি বলেন : যে ইসলামের প্রশংসা তো করে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না।
(ওয়াকীয়া, কিতাবুয জুহুদ ৪৭১; আবু নুয়াঈম আল হিলইয়া, ১/২৮২; ইবনে আবী শাইবাহ ৭২৮০)
ইমাম ইবনে হিব্বান (রহ) বলেন, “যার সমস্ত প্রচেষ্টা কেবল পেট এবং যৌনতা পূরণের জন্য হয়ে থাকে সে তো চতুষ্পদ প্রাণীদের মধ্যে গণ্য।”
من لم يكن له هِمّةٌ إلا بطنه وفرجه عُدَّ من البهائم
(রওদাতুল উক্বলা, পৃষ্ঠা : ৩৪৯)
ফুদাইল ইবন ইয়াজ (রহ) বলেন, “দুটো জিনিস অন্তরকে শক্ত করে ফেলে, অনর্থক বেশি কথা বলা এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা।”
(রওদাতুল উক্বলা, পৃষ্ঠা : ৬৮)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “মিথ্যা কথা বললে চেহারা অনেক বেশি কালো হয়ে যায়। মিথ্যাচারে আল্লাহ এতোই অসন্তষ্ট হন যে, মিথ্যুকের চেহারায় একধরনের কালো পর্দা পড়ে যায়। এটা সবাই দেখতে পায় না। একজন সত্যবাদীই কেবল তা দেখতে পায়।”
(আল ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন, ১/৯৫)
তাবেঈ হাসান আল বাসরী (রহ) বলেন, “যদি সাহাবায়ে কেরাম (এই যুগে) বের হয়ে তোমাদের অবস্থা দেখতেন, তাহলে শুধুমাত্র তোমাদের কিবলা ছাড়া আর কিছুই চিনতে পারতেন না।”
لَو خَرَجَ عَلَيكُمْ أصحابُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ما عَرَفُوا مِنكُمْ إلّا قِبلَتَكُمْ!
(জামিউ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাদ্বলিহি, ইবনে আব্দুল বার, ২/১২২২)
তাবেঈ রাবীঈ বিন খুসাইম (রহ) বলেন, “রাসুল (সা) এর সাহাবাগণ যদি আমাদের দেখতেন, তাহলে হুঙ্কার দিয়ে বলতেন এরা আখেরাতের উপর ঈমান রাখে না।”
لو رآنا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم لقالوا هؤلاء لا يؤمنون بيوم الحساب
(ফয়যুল কাদীর শরহু জামেউস সগীর, ইমাম মুনাওয়ী, ৩/২৩৮)
ইবনু আবূ উওয়াইস বলেন, “ইমাম মালিক বলেন, একদিন রাবীআ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, মালিক, ইতর শ্রেণি কারা? আমি বলি, যারা দ্বীন বেচে খায়। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, নিকৃষ্টতম ইতর কারা? আমি বলি, যারা দ্বীনের নামে অন্যের সম্পদ হাতিয়ে নেয়। তিনি বলেন, চমৎকার। এরপর তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে নেন।”
(তারতীবুল মাদারিক, ১/৩৫, আব্দুল্লাহ মাহমুদ অনূদিত)
❏ যুহুদ, তাকওয়া, ইস্তিকামাহ
• যুহুদ
“ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) এর যুগে যখন অভাব অনটন নেমে আসে, তখন তিনি নিজের জন্য গোশত খাওয়া হারাম (নিষিদ্ধ, শরঈ হারাম নয়) করে নেন আর যইতূন খাওয়া শুরু করেন। এ সময় তিনি হাতের আঙ্গুল দিয়ে নিজের পেটে টোকা দিলে এক প্রকার আওয়াজ বের হয় (ক্ষুধায় পেটের ভিতর আওয়াজ)। তিনি বলেন, তুমি আওয়াজ করো। কিন্তু যতদিন মানুষজন জীবন ফিরে না পাচ্ছে ততদিন তোমার জন্য এটা ছাড়া আর কিছুই নেই।”
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ:تَقَرْقَرَ بَطْنُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَكَانَ يَأْكُلُ الزَّيْتَ عَامَ الرَّمَادَةِ وَكَانَ حَرَّمَ عَلَيْهِ السَّمْنَ , فَنَقَرَ بَطْنَهُ بِإِصْبَعِهِ , قَالَ: تَقَرْقَرْ تَقَرْقُرِكِ إِنَّهُ لَيْسَ لَكِ عِنْدَنَا غَيْرُهُ حتى يحيا الناس
(তবাক্বাত ইবনে সাদ, ৩/৩১৩, সনদ সহীহ)
আবুল হাসান আলী ইবনুল মাদীনি (রহ) বর্ণনা করেন, “ইমাম সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো, দুনিয়া বিমুখীতার সীমা কতটুকু? তিনি বলেন, সুখের সময়ে আল্লাহর নিয়ামতের উপর শোকর গুজার হওয়া, আর মুসিবতের সময় ধৈর্যধারণ করা।”
أن تكون شاكراً في الرضا. صابراً في البلاء
(শুয়াবুল ঈমান, ৯৬৩৭)
ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বর্ণনা করেন, “সালাফদের কেউ একজন বলেন, যখন আমরা সালাতের জন্য আসি, তখন জুতার সাথে দুনিয়াও বাইরে ছেড়ে আসি।”
(عقد الجمان في تدبر القرآن)
ইমাম আওযায়ী (রহ) বলেন, “যেদিন আতা ইবনে আবী রাবাহ রহিমাহুল্লাহ ইন্তেকাল করেন, সেদিন তিনি দুনিয়ার জমিনে লোকদের পছন্দনীয় এবং মর্যাদাবান ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু এরপরেও জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর দারসে ৮/৯ জনের বেশি লোক উপস্থিত থাকতেন না।”
مات عطاء بن أبي رباح يوم مات وهو أرضى أهل الأرض عند النّاس وما كان يشهد مجلسه إلا تسعة أو ثمانية
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৫/৮৪)
রাবীঈ ইবনে খাইসাম (রহ) তাঁর সাথী দ্বারা মাথায় পাথর লাগার দরুন আঘাতপ্রাপ্ত হন, তিনি রক্ত মুছতে থাকেন আর সাথে বলতে লাগেন, “আল্লাহ যার দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হলাম তাকে ক্ষমা করে দিন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেনি।”
أصاب الربيع بن خيثم حجرُ في رأسه فشجَّه، فجعل يمسح الدم عن وجهه ويقول: اللهم اغفر له فإنه لم يتعمدني.
(সিফাতুস সাফওয়া, ২/৬৫৪)
লোকমান হাকিম তার সন্তানকে নসীহত করে বলেন, “হে আমার সন্তান! যদি দেখো মানুষ নিজের সুন্দর কথার উপর গর্ব করছে, তখন তুমি নিজের চুপ থাকার উপর গর্ব করিও।”
يا بني إذا افتخر الناس بحسن كلامهم فافتخر أنت بحسن صمتك.
(রওয়াঈ আল হিকমাহ, ৩৪)
খলীফা হিশাম বিন আব্দুল মালিক আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) এর ছেলে সালিমকে কাবার সামনে বলেন, “তোমার যা প্রয়োজন আমার কাছে চেয়ে নাও। সালিম রহিমাহুল্লাহ জবাবে বলেন, আমার লজ্জা লাগে আল্লাহর ঘরে অন্য কারো কাছে কিছু চাইতে।”
سلني ما شئت من حاجتك.
فقال سالم: إني أستحي من الله أن أسأل غيرَه في بيته.
(তারিখে দিমাশক্ব, ২০/৬৪)
উসমান বিন আবুল আস (রা) বলেন, “যদি জুমআ এবং জামাতে সালাত পড়ার হুকুম না থাকতো, তাহলে আমি নিজের ঘরেই একটা জায়গা নির্দিষ্ট করে নিতাম, সেখান থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বের হতাম না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাকে কবরের জন্য বের করা হতো।”
لولا الجمعة وصلاة الجماعة لبنيت في أعلى داري هذه بيتًا، ثم دخلته فلم أخرج منه حتى أخرج إلى قبري
(আয যুহুদ লি-ইমাম আহমদ, ৮২৪, সনদ হাসান)
• তাকওয়া
তাবেঈ উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ) কে অসুস্থতার দরুন এক পা কেটে ফেলতে হয়। যখন কেটে ফেলা পা একটা পাত্রের মধ্যে ওনার সামনে নিয়ে আসা হয় তখন তিনি বলেন, “হে আমার রব! আপনি তো জানেন, কখনো আমি এই পা দিয়ে গুনাহের দিকে একটা কদমও রাখিনি।”
اللهم إنك تعلم أني لم أمش بها إلى معصية قط!
(তারিখে দিমাশক্ব, ৪০/২৬৪; তারিখুল ইসলাম, ৩/১৭৮)
মালিক ইবনে দীনার (রহ) বলেন, “হারামের এক টাকা ছেড়ে দেওয়া আমার নিকট এক হাজার টাকা সদকা করার চাইতে উত্তম।”
ﻷﻥ ﻳﺘﺮﻙ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺩﺭﻫﻤﺎ ﺣﺮﺍﻣﺎ ﺧﻴﺮ ﻟﻪ ﻣﻦ ﺃﻥ ﻳﺘﺼﺪﻕ ﺑﻤﺌﺔ ﺃﻟﻒ ﺩﺭﻫﻢ
(আল মুজালাসাহ ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম, ৫/১২৫)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন,
وكلُّ أحدٍ إذا خفته هربت منه، إلَّا الله عزَّ وجلَّ ؛ فإنَّك إذا خفته هربتَ إليه
“যখনই তোমরা কাউকে ভয় করো তার থেকে দূরে পালিয়ে বেড়াও, আল্লাহকে ছাড়া। যখন আল্লাহর প্রতি ভয় সৃষ্টি হয়, তখন তাঁর দিকেই ধাবিত হও।”
(মাদারিজুস সালিকিন, ১/৩৮২)
ইমাম ইবনুল জাওজী (রহ) বলেন, “সালাফ সালেহীনগণ তাক্বওয়া অবলম্বন করার পরেও কাদঁতেন, আর তুমি গুনাহ করেও হেসে-খেলে সময় ব্যয় করো।”
"كانوا يبكون مع التّقوى،وأنت تضحك مع الذنوب
(আল খাওয়াতিম, পৃষ্ঠা : ২৪৫)
“তাবেঈ সাবিত আল বুনানী (রহ) এর চোখে কিছুটা সমস্যা ছিলো, ডাক্তার ওনাকে পরামর্শ দিলেন যদি আপনি না কাঁদেন তাহলে আপনার চোখ ভালো হয়ে যাবে। তিনি বলেন, وما خيرٌ في عين لا تبكي ওই চোখে কিসের ভালো (কল্যাণ) রয়েছে, যে চোখ কাঁদে না?”
(আর রাক্কাহ ওয়াল বুকা লি-ইবনে আবীদ দুনিয়া, পৃষ্ঠা : ২০৮; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/৩২৩, সনদ হাসান)
“একবার ইমাম বিন বায (রহ) এর কাছে এক অহংকারী ব্যক্তি আসে আর খুবই অভদ্রভাবে বলে, আল্লাহকে ভয় করো। ইমাম বিন বায (রহ) এটা শুনে কাঁদতে থাকেন, আশেপাশের লোকজন বলেন, হে শাইখ! আপনি কাঁদছেন কেন, সে তো অভদ্র একটা লোক। ইমাম বিন বায (রহ) বলেন, সে আমাকে আল্লাহকে ভয় করার কথা বলছে, আমি কি ভয় করবো না? রাসুল (সা) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় কথা হলো, যখন কোন মানুষ অন্য একজন মানুষকে বলে, আল্লাহকে ভয় করো। জবাবে সে বলে, তুমি আমাকে উপদেশ দিচ্ছো? নিজের চিন্তা নিজে করো।”
(সিলসিলাহ সহীহাহ, ২৫৯৮)।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ হল যখন একজন মানুষ তার ভাইকে বলে, আল্লাহকে ভয় করো। জবাবে সে বলে, তুমি আমাকে উপদেশ দিচ্ছো? নিজের চিন্তা নিজে করো।”
ان من أكبر الذنب أن يقول الرجل لأخيه: اتق الله، فيقول: عليك نفسك، أنت تأمرني؟
(মুজামুল কবীর, তবারানী ৯/১১৩, সনদ সহীহ : আলবানী)
ইউসুফ ইবনে আবসাত্ব বলেন, “ইমাম সুফিয়ান আস সাওরী রহিমাহুল্লাহ যখন কঠিন বিচার দিবসের কথা শুরু করতেন, ভয়ে ওনার প্রস্রাবে রক্ত চলে আসতো (রক্তের বিষয়টি ওনার বলার মাধ্যমে হয়তো জানতেন)।”
كان الثوري إذا أخذ في ذكر الآخرة يبول الدم.
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী, ৭/২৪২)
হাম্মাদ ইবনু যাঈদ (রহ) বর্ণনা করেন, “ইমাম আইয়ুব সাখতিয়ানী রহিমাহুল্লাহ যখন মজলিসে বসেন তখন ওনার চোখে পানি চলে আসে, অতঃপর তিনি নাক পরিষ্কার করতে থাকেন আর বলেন, প্রচন্ড সর্দি।”
كان أيوب السختياني في مجلس فجاءته عبرة، فجعل يتمخط ويقول: ما أشد الزكام
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৫০৩)
আনাস ইবনু মালিক (রা) বলেন, “আল্লাহর কসম, আমরা কখনো মিথ্যা বলতাম না, বরং আমরা মিথ্যা কি সেটাই জানতাম না।”
وَاللَّهِ مَا كُنَّا نَكْذِبُ وَلَا نَدْرِي مَا الْكَذِبُ!
(তাফসিরে তাবারী, ৮/৬৬৬)
মুসান্না ইবনুল হারিসা আশ শায়বানী (রহ) বলেন, “ওয়াদা ভেঙে ফেলার চাইতে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মরে যাওয়া আমি বেশি পছন্দ করবো।”
لأن أموت عـطشًا أحبّ إليّ من أن أُخلف موعدًا
(বাহজাতুল মাজালিস, ২/৪৯৪)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “মুত্তাকী হওয়ার জন্য এমন কোন শর্ত নেই যে, সে গুনাহ করতে পারবে না, অথবা সে ভুল কিংবা অপরাধ থেকে নিষ্পাপ। যদি এমন কোন শর্ত থাকতো তাহলে পুরো উম্মতের মধ্যে কেউ মুত্তাকী হতে পারতো না। মুত্তাকী তো সে, যে নিজের গুনাহ থেকে তওবা করে আর গুনাহকে মিটিয়ে দেয় এমন নেক আমল করে।”
(মিনহাজুস সুন্নাহ, ৭/৮২)
ইমাম ইবনে রজব (রহ) বলেন, “অনেক লোকজন মনে করেন তাক্বওয়া শুধুমাত্র আল্লাহর হক্ব আদায় করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, বান্দার হক্বের সাথে এর সম্পর্ক নেই।”
كثير من الناس يظن أن التقوى هي القيام بحق الله دون حقوق عباده .
(জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ১/৪৫৪)
আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রা) বলেন, “আমি পিছনের কাতারে ফজরের সালাত পড়ার সময় ওমর রাদিআল্লাহু আনহুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই, তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন, (انما اشکوا بثی و حزنی الی الله) আমি আল্লাহর কাছেই আমার দুঃখ বেদনার অভিযোগ জানাচ্ছি।”
(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, ৩৫৬৫, সনদ সহীহ)
• ইস্তিকামাহ
উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) ইস্তিকামাতের ব্যাখ্যায় বলেন,
الِاسْتِقَامَةُ أَنْ تَسْتَقِيمَ عَلَى الْأَمْرِ وَالنَّهْيِ، وَلَا تَرُوغَ رَوَغَانَ الثَّعْلَبِ
“ইস্তিকামাহ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ নিষেধের উপর দৃঢ় থাকা, শৃগালের মত এদিক ওদিক বিচরন না করা।”
(তাফসিরে বাগাবী, ৪/২০৩)
ইবনে সামাআহ (রহ) বলেন, “আমি চল্লিশ বছর অবধি কখনো তাকবীরে ঊলা পরিত্যাগ করিনি শুধুমাত্র আমার মায়ের মৃত্যুর দিন ছাড়া।”
قال ابن سماعة مكثت أربعين سنة لم تفتني التكبيرة الأولى إلا يوم ماتت أمي
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/৬৪৬)
সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ) বলেন, “পঞ্চাশ বছর ধরে কখনো আমার তাকবীরে উলা ছুটেনি, আর না এই পঞ্চাশ বছরে আমি সালাতের সময় কারো পিঠ দেখেছি।”
ما فاتتني التكبيرة الأولى منذ خمسين سنة،وما نظرت في قفا رجل في الصلاة منذ خمسين سنة
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ২/১৬৩)
ইমাম বুখারী (রহ) বলেন, “আমি আশা করি, যখন আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবো, তখন কোন ব্যক্তি দাবি করতে পারবে না, আমি তার গীবত করেছি।”
(আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১১/৩২)
ফুদাইল ইবনু ইয়াদ্ব (রহ) বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ সুস্থ স্বাভাবিক থাকে, ততক্ষণ আল্লাহর উপর আশা ভরসার চাইতে ভয়ভীতি অবলম্বন করা উত্তম। আর যখন মৃত্যুর সময় কাছে আসবে, তখন আশা ভরসা রাখা ভয়ভীতির চাইতে উত্তম।”
الخوف أفضل من الرجاء ما كان العبد صحيحا. فإذا نزل به الموت فالرجاء أفضل من الخوف.
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৮/৮৯)
❏ দোয়া ও তাওবাহ
• দোয়া
রাসুল (সা) বলেন, “যখন সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, আর দোয়া কবুল করা হয়।”
إذا نودِي بالصلاةِ فُتحَتْ أبوابُ السماءِ، واستُجيبَ الدعاءُ
(মুসনাদে আবী দাউদ ত্বায়ালিসী, ২২২০; মুসনাদে আবী ইয়ালা, ৪০৭২; সিলসিলাহ সহীহাহ, ১৪১৩)
ইমাম শাওকানি (রহ) বলেন, “আল্লাহর কাছে দোয়া না করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। এটি এক প্রকারের মানসিক ব্যাধি এবং আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের শোকর না করা।” (তুহফা, পৃষ্ঠা : ৩৩)
ইমাম মোল্লা আলী ক্বারী (রহ) বলেন, “আল্লাহ দোয়া করার হুকুম দিয়েছেন, আর যেই বিষয়ের হুকুম দেওয়া হয়, সেটা ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।” (মিরক্বাতুল মাফাতিহ, ৪/১৫২৭)
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেন, “দোয়া কবুলের চিন্তা আমি করি না, চিন্তা শুধুমাত্র দোয়া করার সুযোগ পাওয়া। যখন দোয়া করার তৌফিক দেওয়া হয়, তখন কবুলিয়ত সাথেই আসে।”
إنَّي لا أَحمِلُ همَّ الإجابة، ولكن همّ الدُّعاء؛ فإذا أُلهِمتُ الدُّعاءَ فإن الإجابة معه.
(আল ফাওয়াঈদ, পৃষ্ঠা : ১১৪)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “গোপনে অন্য কোন ব্যক্তির জন্য করা দোয়া সবচেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি কবুল হয়।”
ﻭﺃﺳﺮﻉ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺇﺟﺎﺑﺔ : ﺩﻋﺎﺀ ﻏﺎﺋﺐ ﻟﻐﺎﺋﺐ
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ২৮/ ৯৬)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “আর নিচু আওয়াজে ডাকা সবচেয়ে উত্তম আদবের অন্তর্ভুক্ত, কেননা রাজা বাদশাহদের সামনে আওয়াজ উঁচু করা যায় না।”
والنداء الخفي أعظم في الأدب ، لأن الأصوات لا ترفع عند الملوك
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১৫/১৬)
ফাতেমা (রা) জুমআর দিন খাদেমকে বলতেন, “সূর্যের দিকে চোখ রাখো, যখন খাদেম এসে বলতেন সূর্য অস্ত যাওয়ার নিকটে, তখন তিনি দোয়া করতে থাকতেন, এমনকি সূর্য ডুবে যেতো।”
إذا كان يوم الجمعة أرسلت غلامًا لها ينظر لها الشمس؛
فإذا أخبرها أنها تدلت للغروب أقبلت على الدعاء إلى أن تغيب
(ফাতহুল বারী, ৩/৭১)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “সালাফদের একদল থেকে বর্ণিত রয়েছে যে, কুরআন মাজিদ খতমের পর দোয়া করলে তা কবুল হয়। যদি কোন ব্যক্তি কুরআন খতম করার পর নিজের জন্য, পিতামাতার জন্য, মাশায়েখ এবং অন্যান্য আহলে ঈমানদারদের জন্য দোয়া করে, তাহলে শরয়ীভাবে এটা একটা পছন্দনীয় আমলের অন্তর্ভুক্ত।”
روي عن طائفة من السّلف أنّ عند كُلّ ختمة دعوةٌ مُجابة، فإذا دعا الرّجُل عقيب الختمة لنفسِهِ ولوالديهِ ومشايخه وغيرهم من المؤمنين والمؤمنات كان هذا من الجنس المشروع.
(জামেউল মাসায়েল, ৪/১৯৯)
“আনাস ইবনে মালেক (রা) যখন কুরআন খতম করতেন, তখন নিজ পরিবার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে একত্রিত হতেন আর তাদের জন্য দোয়া করতেন।”
كان أنس رضي الله عنه أنه إذا ختم القرآن جمع ولده وأهل بيته فدعا لهم
(সুনান দারেমি, ৩৫১৭, সনদ সহীহ)
হাফেজ ইবনে আসাকির (রহ) লিখেন, “ছলত ইবনু বুস্তাম রহিমাহুল্লাহ নিজ চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছিলেন, এরপর একদিন তাঁর বন্ধু জুমআর দিন আসরের পর তার জন্য দোয়া করছিলেন, অতঃপর সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই তিনি হাঁচি দেন, আর হাঁচির সাথে সাথেই তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে।”
أصاب العمى الصلت بن بسطام، فجلس إخوانه يدعون له عصر الجمعة، وقبل الغروب عطس عطسة، فرجع بصره
(তারিখ দিমাশক, ৬৪/১৪০)
অতঃপর যখন তোমরা নামায সমাপ্ত করবে তখন আল্লাহর যিকর করো (সুরা নিসা, ১০৩); তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো রাত্রির একাংশে এবং নামাযের পরেও (সুরা ক্বাফ ৫০/৪০)।
রাসুল (সা) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, “কোন দোয়া কবুলের অধিক সম্ভাবনা রাখে? তিনি ইরশাদ করলেন, গভীর রাতের দোয়া আর ফরজ নামাজ পরবর্তী দোয়া।” (সহিহ তিরমিজি, ৩৪৯৯)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ এই কথাটি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা হিসেবে বুঝায়, দুঃখ প্রকাশ করার অর্থে নয়। অথচ অধিকাংশ লোক মুসিবতের সময় এই কথাটি বলে থাকে দুঃখ প্রকাশের জায়গায় এবং বলেও বিস্মিত হয়ে, অধৈর্য হয়ে।” (মাজমুয়াল ফাতওয়া, ১০/৬৮৬)
• তাওবাহ-ইস্তেগফার
জুন নূন (রহ) বলেন, “তওবার একটি আলামত হচ্ছে, মন্দ লোকের সঙ্গ ছেড়ে দেওয়া, আর নেক লোকের সোহবত গ্রহণ করা।” (শুয়াবুল ইমান, ৬৭৮৭)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “আল্লাহর ভয় ইখতিয়ার করাও মাগফিরাত বা ক্ষমা পাওয়ার বড় একটা উপায়।”
الخوفُ مِنَ الله مِنْ أعظم أسباب المغفرة
(মিনহাজুস সুন্নাহ, ৫/৪৮৪)
শাইখুল আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন বায (রহ) বলেন, “ফরজ নামাজে সালাম ফেরানোর পরের সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেই সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর রহমত বর্ষিত হতে থাকে, তাড়াহুড়ো করে দাড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বরং সেই সময়ে বসে থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, মাসনুন দোয়া, জিকির করা উচিত।” (https://binbaz.org.sa/old/30006)
ইমাম ইবনে বাত্তাল (রহ) বলেন, “যার অধিক গুনাহ রয়েছে এবং সে যদি ইচ্ছা পোষণ করে আল্লাহ কোন ক্লান্তি ছাড়াই যেন তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন, তাহলে সে যেন ফরজ সালাতের পরের সময়টা নির্দিষ্ট করে এবং ফরজ সালাতের পর একই জায়গায় বসে মাসনুন দোয়া করে। ফেরেস্তারাও যেন তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করে, সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।” (শরহু ইবনে বাত্তাল, ৩/১১৪)
ইমাম ইবনে বাত্তাল (রহ) বলেন, “যার গুনাহ বেশি, সে যেন কোন তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকে পানি পান করায়। আল্লাহ এক ব্যক্তির সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যে তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পান করিয়েছিলো, তাহলে ওই ব্যক্তির ব্যাপারে আল্লাহর রহমত কেমন হতে পারে, যে একজন ইমানওয়ালা মানুষকে পানি পান করিয়ে তাঁর জীবন বাঁচায়?”
من كثرت ذنوبه فعليه بسقي الماء، فإذا غفرت ذنوب الذي سقى كلباً، فما ظنكم بمن سقى رجلاً مؤمناً موحداً وأحياه بذلك".
(শরহু সহীহ বুখারী, ৬/৫০৩)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “মুমিনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন মুসিবতের সময় ধৈর্য ধরে আর তা কবুল করে নেয় এবং গুনাহে পতিত হলে তাওবা আর ইস্তেগফার করে।”
والمؤمن مأمور عند المصائب أن يصبر ويسلم، وعند الذنوب أن يستغفر ويتوب
(আল ফুরক্বান, ১/১৩৫)
ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ) কে কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন, “আমি ইস্তেগফার করবো নাকি তাসবীহ পড়বো, কোনটি উত্তম? জবাবে তিনি বলেন, ময়লা কাপড়ে সুগন্ধির (তাসবীহ) চাইতে সাবানের (ইস্তেগফার) দরকার বেশি।”
أيّما أفضل : أُسبِّح أو أستغفر؟ قال : الثوب الوسخُ أحوج إلى الصابون من البخور .
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী, ২১/৩৭০)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন, “তাওহীদ ছাড়া মানুষের দুশ্চিন্তা এবং দারিদ্রতা দূরীভূত হওয়া সম্ভব নয়। আর যদি তাওহীদের পাশাপাশি ইস্তেগফারও করা হয় তাহলে বান্দা তার ভাগ্য এবং দৌলত পেয়ে যায়, আর সেসব বিষয় (পেরেশানি, উদ্বিগ্নতা, মানসিক অসুস্থতা) থেকে রক্ষা পায়, যা তাকে আযাবের মধ্যে ঘিরে রাখে।”
لا يزولُ فقرُ العبد وفاقته إلا بالتوحيد، وإذا حصل مع التوحيد الاستغفار؛ حصَل للعبد غِناه وسعادته، وزال عنه ما يُعذّبه
(মাজমুউয়াল ফাতাওয়া, ১/৫৬)
ইমাম ইবন আল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “নিজ রবের কাছে বান্দার তওবা আল্লাহর পক্ষ থেকে তার আগে একটি গ্রহণযোগ্যতা ও তার পরে একটি গ্রহণযোগ্যতা দ্বারা বেষ্টিত থাকে৷ সুতরাং, আল্লাহর পক্ষ থেকে আগে ও পরে দুটি গ্রহণযোগ্যতার মাঝে বান্দার তওবা নিহিত থাকে৷ কেননা প্রথমে তিনি তাকে অনুমতি, সুযোগ ও মনের মধ্যে তওবার চিন্তা ঢেলে দেন, ফলে বান্দা তওবা করে৷ তারপর দ্বিতীয়ত আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন ও সওয়াব দেন৷”
وتوبة العبد إلى ربه: محفوفة بتوبة من الله عليه قبلها ، وتوبة منه بعدها ، فتوبته بين توبتين من الله ، سابقة ولاحقة ، فإنه تاب عليه أولا، إذنا وتوفيقا وإلهاما ، فتاب العبد ، فتاب الله عليه ثانيا قبولا وإثابة
(মাদারিজুস সালিকিন, ১/৩১২)
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ) বলেন,
الإستِغفَارُ يُخرِجُ العَبدَ مِن الفِعلِ المَكرُوهِ إلَى الفِعلِ المَحبُوبِ، مِن العَمَلِ النَّاقِصِ إلَى العَمَلِ التَّامِّ، ويَرفَعُ العَبدَ مِن المَقَامِ الأدنَى إلَى الأعلَى مِنهُ والأكمَلِ.
“ইস্তেগফার ব্যক্তিকে অপছন্দনীয় কাজ থেকে ফিরিয়ে ভালো আমলের দিকে নিয়ে যায়, নাক্বিছ (অসম্পূর্ণ) আমলের পরিবর্তে পরিপূর্ণ আমলের দিকে ধাবিত করে, নিচু জায়গা থেকে উচ্চমর্যাদায় পৌছিয়ে পরিপূর্ণ করে।” (মাজমুউয়াল ফাতাওয়া)
কোন একজন সালেহ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়, “তওবা কবুলের আলামত কি? জবাবে তিনি বলেন, আল্লাহ তোমার জন্য সৎ আমলের এমন দরজা খুলে দিবেন, যা আগে তোমার কখনো নসীব হয়নি।”
"سُئل بعضهم: ما علامة قبول التوبة؟ قال: أن يفتح عليك بابًا من الطاعة لم يكن لك قبل ذلك.
(তাশনীফ আল মাসামিঈ, যারকাশী, ৪/৩৫৯)
❏ পরচর্চা
ইমাম ইবনু সিরীন (রহ) বলেন, “মানুষদের মধ্যে তাদেরই সবচেয়ে বেশি ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে, যারা অধিকাংশ সময় অন্যদের ভুলভ্রান্তি নিয়ে পড়ে থাকে।”
إنَّ أكثر الناس خطايا أكثرهم ذكرًا لخطايا الناس
(আল মুজালাসাহ ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম, ৬/৮৬)
বকর বিন আব্দুল্লাহ মুযানী (রহ) কে জিজ্ঞেস করা হয়, “আপনি বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন কেন? জবাবে তিনি বলেন, আমার জবান হিংস্র জন্তুর মতো, একে ছেড়ে দিলে আমাকেই খেয়ে ফেলবে।”
إنك تُطيل الصمت؟! فقال: إن لساني سبعٌ؛ إن تركته أكلني.
(বাহজাতুল মাজালিস, ১১)
ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর (রহ) বলেন, “চোগলখোর (কুৎসাকারী) ব্যক্তি একটা মুহুর্তে যতটা ফাসাদ সৃষ্টি করে, একজন যাদুকর পুরো মাসেও তা করতে পারে না।”
يُفسد النَّمَّام في ساعة، مالا يُفسدُ الساحر في شهر
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৩/৭০)
ইমাম সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা (রহ) বলেন, “গীবত ঋণ থেকেও বেশি ক্ষতিকারক, কেননা ঋণ পূরণ করা যায় কিন্তু গীবত কখনো পূরণ করা যায় না।”
الغيبة أشد من الدَّيْن، الدَّيْن يُقْضَى، والغيبة لا تُقْضَ
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৭/২৭৫)
ফুদ্বাইল ইবনু ইয়াদ্ব (রহ) বলেন, “হজ্ব করা, জিহাদ করা, সীমান্তে পাহারা দেওয়ার চাইতেও কঠিন কাজ হচ্ছে জবানের হিফাজত করা।”
لا حج و لا جهاد و لا رباط أشد من حبس اللسان
(ইবনে আবী আদ দুনইয়া, কিতাব আস ছমত, ৬৫৪)
ইমাম আওযাঈ (রহ) এক ব্যক্তিকে বলেন, “আমি এমন একটা জায়গায় ঘর বানাতে চাই, যেখানে আমার প্রতিবেশী থাকবে সেসব লোকজন, যারা গীবত করে না, হিংসা করে না, ঘৃণা পোষণ করে না। এরপর ওই ব্যক্তি ইমাম আওযাঈ (রহ) এর হাত ধরে কবরস্থান নিয়ে যান আর বলেন, এটাই সেই জায়গা।”
أريد بيتا بجوار أناس لا يغتابون، ولا يحسدون، ولا يبغضون!
فأخذني إلى المقبرة، وقال: هنا
(জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম, ২/১৮২)
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ) হাফেজ ইবনে সানাদের জীবনীতে লিখেন, “অধিকাংশ বিষয় তিনি তার স্মৃতি থেকে ভুলে যান এমনকি কুরআন মাজিদও ভুলে গিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়ে থাকে, তিনি বেশিরভাগ সময় মানুষের গীবত এবং নিন্দা করতেন যার দরুন এই অবস্থা।”
قال الحافظ ابن حجر - رحمه الله : في ترجمة الحافظ ابن سند : ونسي غالب محفوظاته حتى القرآن ويقال إن ذلك كان عقوبة له لكثرة وقيعته في الناس
(আদ দুরারুল কামিনাহ, ৬/২৪)
ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি তোমার সামনে অন্য কারো দোষকীর্তন করে, নিশ্চিত সে তোমার ব্যাপারেও (অন্য কোথাও) একই কাজ করে।”
من نم لك نم عليك .
(সিয়ার আলামিন নুবালা, ৪/৫৫০)
ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ) কে জিজ্ঞেস করা হল, “আপনি সলাত আদায় করার পর আমাদের সাথে বসেন না কেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি সাহাবা এবং তাবেঈনদের সাথে বসি (অর্থাৎ, তাদের কিতাব এবং আছার পড়ি), তোমাদের সাথে বসে কি করবো? তোমরা তো শুধু মানুষের গীবত করো।”
قيلَ للإمام ابن المُبارَك: إذا أنتَ صلّيتَ؛ لمَ لا تجلس معنَا ؟!
قالَ: أجلسُ مع الصّحابة رضي الله عنهم والتابعين، أنظر في كتُبهم وآثارِهم؛ فمَا أصنعُ معكم ؟أنتم تغتابُون النّاس
(সিয়ার আলাম আন নুবালা, যাহাবী, ৮/৩৯৮)
ইমাম ইবনে হিব্বান রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মূর্খতার বড় একটা লক্ষণ হচ্ছে, সে যা কিছুই তার মনে মনে ধারণা করে, তা মুখ দিয়ে বলে ফেলে।” (রওদাতুল উক্বলা, পৃষ্ঠা : ১৬৮)
❏ মৃত্যু ও আখিরাত
• মৃত্যু
ইমাম মুযানী (রহ)কে কেউ একজন মৃত্যুর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে জবাবে তিনি বলেন, “এটা ধনী লোকদের জন্য ভয়ের কারণ, গরীবের তো কামনা (চাওয়া)।”
هو فزع الأغنياء ،وشهوة الفقراء
(ওয়াফায়াত আল আইয়্যান লি-ইবনে খাল্লীকান)
ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রহ) বলেন, “মৃত ব্যক্তির চেহেরা কখনো কখনো কালো কিংবা ওই ধরনের রঙ ধারণ করে, এটা রোগ বা রক্তের সমস্যার কারণে হয়ে থাকে, সেটা দেখে জাহেল লোকজন তাকে অস্বীকার করে আর তার ব্যাপারে উল্টাপাল্টা কথা বলা শুরু করে।”
الميّت ربّما تغير وجهه بالسواد ونحوه، وذلك لداء أو غلبة دم، فينظر الجهال إليه فينكرونه ويتأولون فيه.
(আল ইসতিযকার, ৭/১৯৫)
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ) বলেন, “মৃত্যুর ব্যাপারে মানুষের যে নিশ্চয়তা, এর মত নিশ্চয়তা অন্য কিছুতে দেখি নি; যদিও সেটা তাদের কাছে সংশয়ের মত, কেননা তারা এর প্রস্তুতি গ্রহণ করে না।”
ما رأيتُ يقينًا أشبه بالشكّ من يقينِ النّاس بالموتِ ثمّ لا يستعدّونَ له
(তাফসিরে কুরতুবি, ১০/৬৪)
একবার ঘরের চেরাগ নিভে গেলে হিশাম দাস্তুওয়ী (রহ) জমিনে পড়ে যায়। তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করেন, কি হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, আমার কবরের অন্ধকার স্মরণ হয়েছিলো। (তবাক্বাত ইবনে সাদ, ৭/২৭৯)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) বলেন, “যখন মালাকুল মাউত মুমিনের রূহ কবজ করতে আসে তখন তাকে বলে, আপনার রব আপনাকে সালাম জানিয়েছেন।”
إذا جاء ملَكُ الموت يَقبِضُ روحَ المؤمن ، قال له : إنَّ ربَّكَ يٌقْرِئُكَ السَّلام.
(জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম, পৃষ্ঠা : ৬৯২)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ) বলেন, “আমি যখন মৃত্যুকে স্মরণ করি, তখন দুনিয়ার প্রতিটি বিষয় মূল্যহীন মনে হয়।”
إذا ذكرت الموت، هان علي كل أمر الدنيا
(সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১১/২১৫)
হাবিব আল ফারসি (রহ) বলেন, “নিশ্চয় ওই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যার মৃত্যুর সাথে তাঁর গুনাহের মৃত্যু ঘটে।” (হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৬/১৫২)
ইমাম আব্দুল হক্ব আল ইশবিলী (রহ) বলেন, “ঘন ঘন মৃত্যুকে স্মরণ করা, ব্যক্তিকে গুনাহ করা থেকে দূরে রাখে, আর কঠোর হৃদয়কে নরম করে।” (আল আক্বিবাত, পৃষ্ঠা : ৪০)
• আখিরাত
রাসুল (সা) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম আল্লাহ তা‘আলার আদালতে যে মামলার বিচার হবে, তা হলো প্রতিবেশীর ঝগড়ার মামলা।”
أولُ خصمينِ يومَ القيامَةِ جارانِ
(মুসনাদে আহমদ, হা/১৭৩৭২; সহীহুল জামে, হা/২৫৬৩, আলবানী : হাসান)
ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মানুষের উপর জুলুম এবং শত্রুতা আখিরাতের রাস্তা খুব কঠিন অবস্থায় পরিণত করে।” (সিয়ারু আলামিন নুবালা, ১০/৪১)
❏ সুন্নাহ
তাবেঈ হাসান ইবনে আতিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসুল (সা) এর উপর জিবরাইল (আ) সুন্নাহ নিয়ে সেভাবেই নাজিল হতেন, যেভাবে কুরআন নিয়ে নাজিল হতেন। আর সেভাবেই রাসুলকে সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন, যেভাবে কুরআন শিক্ষা দিতেন।”
كان جبريل ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم بالسنة كما ينزل عليه بالقرآن ويعلمه إياها، كما يعلمه القرآن.
(আস সুন্নাহ, ইমাম মারওয়াযী, ৪০১; সুনান দারেমি, ৫৮৮; আল কিফায়া, খতিব বাগদাদী, ১২, সনদ সহীহ)
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হয়, আল্লাহর রাসুলের হাদিসের বিরোধিতা করে (অথবা অস্বীকার করে) এমন কোন ব্যক্তিকে ঘৃণা করলে সওয়াব হবে? জবাবে ইমাম আহমদ বলেন, আল্লাহর কসম হ্যাঁ।
أيؤجَرُ الرجل على بُغض من خالف حديث رسول الله -ﷺ-؟؛ فقال: إي والله.
(মাসায়িলুল ইমাম আহমদ, পৃষ্ঠা : ২৫)
ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সাধারণভাবে যেকোনো সময় রাসুল (সা) এর উপর দরুদ পাঠানো আমার নিকট পছন্দনীয়, কিন্তু জুমআর দিন এবং রাতে অধিক পছন্দনীয়।”
وأحب كثرة الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في كل حال ، وأنا في يوم الجمعة وليلتها أشد استحبابا
(আল উম্ম, ১/২৩৯)
ইমাম আইয়ুব সাখতিয়ানী রহিমাহুল্লাহ বলেন,
ﻟﻴﺒﻠﻐﻨﻲ ﺃﻥ اﻟﺮﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﻫﻞ اﻟﺴﻨﺔ ﻣﺎﺕ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﺃﻓﻘﺪ ﺑﻌﺾ ﺃﻋﻀﺎﺋﻲ
“যখন আমি আহলে সুন্নাহর কোন আলেমের মৃত্যুর সংবাদ পাই, তখন এমন মনে হয় যেন আমার শরীরের কোন অংশ হারিয়ে ফেলেছি।”
(হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৩/৯)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরেছে, নিঃসন্দেহে সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের অনুসরণ করেছে।”
فَمَنْ تَمَسَّكَ بِسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
(মাজমুয়াল ফতোয়া, ২/৩৬২)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “ব্যক্তি যতটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ থেকে দূরে থাকবে ততটা দ্বীন ইসলামে সে নিজের ক্ষতি করতে থাকবে, সুন্নতের অনুসরণে দূরে থাকা ব্যক্তি শির্ক এবং বিদআতি আমলে, সুন্নতের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তির চাইতেও বেশি নিপতিত হবে।”
(মাজমুয়াল ফতোয়া, ১০/৩০০)
আবু উবায়দাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যদি আমার কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এর একটি চুল থাকে, তবে সেটি আমার কাছে জমিনের ভিতর এবং বাইরের সমস্ত মূল্যবান বস্তু অপেক্ষা প্রিয় হবে।”
(মুসনাদে আহমদ, ৩/২৫৬, সনদ হাসান)
আব্দুল্লাহ ইবনে আউন রহিমাহুল্লাহ তাঁর অন্তিমশয্যা অবস্থায় বলতে থাকেন, “তোমরা সুন্নাহর অনুসরণ করো, তোমরা সুন্নাহর অনুসরণ করো। দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়ে (অথবা বিদআত) থেকে সতর্ক থাকো। তিনি তাঁর মৃত্যু অবধি এই কথা বলতেন।”
(তাবাক্বাতুল হানাবিলাহ, ইবনে আবী ইয়ালা, ২/৪২)
শাইখ আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে সুন্নাতকে অস্বীকার করলো সে কুরআনকে অস্বীকার করলো, আল্লাহ বলেন, من يطع الرسول فقد أطاع الله অর্থাৎ কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল (সুরা নিসা, ৮০)। রাসূলুল্লাহ (সা) হাদিসে বলেছেন, আমার উম্মতের সকল লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যে অস্বীকার করেছে (সে জান্নাতবাসী হতে পারবে না)। জিজ্ঞাসা করা হল, কে অস্বীকার করেছে, হে রাসূল! উত্তরে বললেন, যে আমার অনুসরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করল না, সে অস্বীকার করল (বুখারী, হা/৭২৮০)।
অপর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন, যে আমার আনুগত্য করল সে অবশ্যই আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে আমার অবাধ্য হলো সে আল্লাহর অবাধ্য হল। অনুরূপভাবে যে ক্ষমতাসীনের আনুগত্য করল সে আমার আনুগত্য করল। আর যে ক্ষমতাসীনের অবাধ্য হলো সে আমার নাফরমানী করলো। ইমাম বা শাসক তো ঢালস্বরূপ, যার পিছনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করা যায় এবং যার দ্বারা বাঁচা যায়। যদি ইমাম বা শাসক আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেন এবং ইনসাফ করেন তা হলে সেটা তার জন্য সওয়াবের কাজ হবে। আর যদি অন্য কিছু করেন তবে সেটা তার উপরই বর্তাবে (বুখারী, হা/২৯৫৭; মুসলিম, হা/১৮৩৫)।”
(সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, পৃষ্ঠা : ২৮১)
ইমাম ইবন আল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন, “উম্মতের কাছে সুন্নাহ প্রচার করা দুশমনের বুকে তির মারার চাইতেও উত্তম। কেননা দুশমনের সাথে লড়াই অনেকেই করতে পারে। কিন্তু সুন্নাহর প্রচার আম্বিয়াদের ওয়ারিশ ও প্রতিনিধিরা ছাড়া অন্য কেউ করতে পারে না। আল্লাহ তার ফজল ও করমে আমাদেরকে তাদের মধ্যে শামিল করুন।”
وتبليغ سنته إلى الأمة أفضل من تبليغ السهام إلى نحور العدو لأن ذلك التبليغ يفعله كثير من الناس وأما تبليغ السنن فلا تقوم به إلا ورثة الأنبياء وخلفاؤهم في أممهم جعلنا الله تعالى منهم بمنه وكرمه
তিনি আরও বলেন, “একারণে জিহাদ দুই ধরনের হয়ে থাকে। এক প্রকার জিহাদ হাত এবং তলোয়ারের দ্বারা করা হয়। এতে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে। অন্য প্রকার জিহাদ দলিল ও হুজ্জতের মাধ্যমে করা হয়। এই জিহাদ রাসূলের অনুসারীদের মধ্য থেকে কেবল বিশেষ ব্যক্তিরাই করে থাকে। এটাই ইমামগণের জিহাদ। উক্ত দুই জিহাদের মধ্যে এটাই উত্তম জিহাদ। কেননা এর উপকার অনেক বেশি, এর প্রয়োজন অনেক তীব্র, আর এর দুশমনও অসংখ্য।”
ولهذا كان الجهاد نوعين جهاد باليد والسنان وهذا المشارك فيه كثير والثاني الجهاد بالحجة والبيان وهذا جهاد الخاصة من اتباع الرسل وهو جهاد الائمة وهو افضل الجهادين لعظم منفعته وشدة مؤنته وكثرة اعدائه
(مفتاح دار السعادة ،۱/۷۰)
ইমাম মালেক রহিমাহুল্লাহ বলেন,
السنة سفينة نوح من ركبها نجا،ومن تخلف عنها غرق
“সুন্নাহ হচ্ছে নূহ (আ) এর নৌকা। যে তাতে আরোহণ করলো, সে নাজাত পেয়ে গেলো। আর যে আরোহণ করলো না, সে ডুবে গেলো।”
(মানাকিবু মালেক, ১৪৮; মিফতাহুল জান্নাহ লিস-সুয়ূতী ১২৯, আব্দুল্লাহ মাহমুদ অনূদিত)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ) বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি তাঁর নিঃশ্বাস পরিমাণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করে তবুও সে তাঁর হক্ব আদায় করতে পারবে না।”
لَو صلّي العبد على النبي ﷺ بِعَدَد أنفاسه لم يكن موفّيا لِحقِّه
(যিলাউল আফহাম, পৃষ্ঠা : ৩৪৪)
❏ মানহাজুস সালাফ
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সাহাবি এবং তাবেঈনদের অনুসরণ অনুকরণের ফলে আকল বৃদ্ধি পায়, দ্বীন মজবুত হয় এবং আখলাকে উন্নতি ঘটে।”
ﻣﺸﺎﺑﻬﺔ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻭ ﺍﻟﺘﺎﺑﻌﻴﻦ ﺗﺰﻳﺪ ﺍﻟﻌﻘﻞ ﻭ ﺍﻟﺪﻳﻦ ﻭﺍﻟﺨﻠﻖ
(ইক্বতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, ১/৫২৭)
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “সে ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যে সালাফদের মানহাজ দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরেছে, আর খালাফদের বিদ‘আহ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে।”
فالسعيد من تمسك بما كان عليه السلف واجتنب ما أحدثه الخلف
(ফাতহুল বারী শরহু সহীহ আল বুখারী, ১৩/২৬৭)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কেউ যদি নিজেকে সালাফদের মাযহাবের দিকে সম্পৃক্ত করে এবং নিজের মাযহাব সালাফদের মাযহাব হিসেবে প্রকাশ করে, এতে ওই ব্যক্তির কোন ভুল নেই। সবার মতৈক্য অনুযায়ী এটাই ওয়াজিব যে, তাদের মাযহাব আঁকড়ে ধরা বা কবুল করে নেওয়া, নিশ্চয়ই সালাফদের মাযহাব হক্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।”
لا عيب على من أظهر مذهب السلف وانتسب إليه واعتزى إليه بل يجب قبول ذلك منه بالاتفاق. فإن مذهب السلف لا يكون إلا حقا
(মাজমুয়াল ফাতওয়া, ৪/১৪৯)
হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “হে কারীগণ, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের (সাহাবীদের) পথে চলো। নিঃসন্দেহে তোমরা যদি তাদের পথ অনুসরণ করো তাহলে তোমরা মহা সাফল্য অর্জন করবে, আর যদি তাদের পথ থেকে সামান্য পরিমাণ এদিক সেদিক চলে যাও তবে তোমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হবে।”
(জামেউ বায়ানিল ইলম, ২/৯৪৭)
ইমাম আওযাঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “নিজের নফসকে সুন্নাহ মোতাবেক চালাও, তাফাররুদাত ইখতিয়ার করিও না, সালাফদের রাস্তায় চলো, এজন্য যে যা তাদের জন্য যথেষ্ট ছিলো তা তোমার জন্যও যথেষ্ট হবে।”
اصبر نفسك على السنة، وقف حيث وقف القوم، وقل فيما قالوا وكف عما كفوا عنه واسلك سبيل سلفك الصالح فإنه يسعُك ما وسعهم.
(আল হুজ্জাহ ফী বায়ানিল মাহাজ্জাহ, আসবাহানী ১/১১২)
[সালাফদের উক্তিগুলো মুহতারাম ওমর ফারুক রায়হান এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে গৃহীত এবং উক্তিগুলো তারই অনূদিত। আল্লাহ উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। তবে সেই সাথে হাতেগোনা কিছু উক্তি মুহতারাম আব্দুল্লাহ মাহমুদ এর অনূদিত এবং রেফারেন্স বন্ধনীর ভেতরে তা উল্লেখও করে দেওয়া হয়েছে]


