টাখনুর নীচে কাপড় পড়াকে আরবিতে ইসবাল বলা হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে এই মাসআলা নিয়ে যেই মত দেয়া হয় সেটাকেই একমাত্র সঠিক মত হিসেবে প্রচার করা হয়। অথচ ক্লাসিক্যাল উলামা এবং চার মাযহাব এই মাসআলা নিয়ে বর্তমান কালের সালাফী ও দেওবন্দী সিন্ডিকেটের চাইতে উদার মত পোষণ করতো।
মুলত এই মাসআলায় তিন ধরণের মত আছেঃ
১। অহংকার ছাড়াই হারাম
২। অহংকার না থাকলে মাকরুহ
৩। অহংকার না থাকলে মুবাহ
আর সকলের মতে অহংকার হলে হারাম। তবে ইতিহাসের জমহুর উলামা ও চার মাযহাবের কেন্দ্রীয় বা মু’তামাদ মত হলো এটা মাকরুহ অথবা মুবাহ। অল্প কিছু ইমাম ও আধুনিক সালাফি-দেওবন্দী আলেমগন এটাকে শর্ত ছাড়াই হারাম বলেছেন। তাদের নাম একাডেমিক সততার খাতিরে শেষে উল্লেখ করে দিয়েছি।
ইছবাল সম্পর্কিত হাদিসগুলো
১। “টাখনুর নীচে যে অংশে ইযার যাবে তা জাহান্নামের আগুনে থাকবে।” [সাহিহ আল-বুখারি]
২। “টাখনুর নীচে কাপড়ের যেটুকু থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।” (নাসায়ী ৫৩৩০)
৩। “যারা অহংকারের সহিত ইযার নীচে ছড়িয়ে পরিধান করবে, (বিচারের দিনে) মহান আল্লাহ্ তাদের দিকে দৃষ্টিপাত পর্যন্ত করবেন না।” [সুনান আবু দাউদ এবং আন নাসা’ই, সাহিহ সনদ]
৪। “যে ব্যক্তি অহংকার বশে তার লুঙ্গি (পরিধেয় কাপড়) মাটির সাথে টেনে নিয়ে বেড়াবে, ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা‘আরা তার প্রতি দৃষ্টি দিবেন না।” (সহীহ বুখারী ৩৬৬৫)
৫। “তিন প্রকার লোকের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হ’ল- টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী, খোঁটাদানকারী (অন্য বর্ণনায় এসেছে, যে খোঁটা না দিয়ে কোন কিছু দান করে না) ও মিথ্যা কসমের মাধ্যমে পণ্য বিদয়কারী’।” (সহীহ মুসলিম - ১০৬)
৬। “লুঙ্গি, জামা ও পাগড়ীতে ইসবাল (ঝুলিয়ে পরা) রয়েছে। এগুলো থেকে যেকোনো একটিকে কোনো ব্যক্তি অহংকার বশে টেনে-ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়ালে কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তার প্রতি সদয় দৃষ্টি দিবেন না।” (সুনান আবু দাউদ; সুনান নাসাঈ; মিশকাত, হাদীস নং ৪৩৩২)
৭। “তুমি কাপড় টাখনু ও হাঁটুর মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠিয়ে নাও। যদি তা না কর তাহলে টাখনু পর্যন্ত অবকাশ রয়েছে। কিন্তু টাখনুর নিচে পড়া থেকে সাবধান। কেননা তাতে অহংকারের বহি:প্রকাশ ঘটে। আর অল্লাহ অহংকার পছন্দ করেননা।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৪০৮৬)
৮। ইবনু’ উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার লুঙ্গিটি একটু ঝুলানো অবস্থায় ছিল। তিনি বললেন, হে ‘আবদুল্লাহ! তোমার ইয়ারটি (লুঙ্গি বা পায়াজামা) উপরে উঠও। সে সময় আমি তা উপরে উঠালে তিনি আবার বললেনঃ আরো উপরে। আমি আরো উপরে তুললাম। তখন থেকেই সব সময় আমি এর ব্যাপারে সজাগ থাকি। উপবিষ্ট লোকদের একজন বলল, কত উপরে (তুলেছিলেন)? তিনি বললেন (নিস্ফ সাক)1 বা অর্ধ গোছা পর্যন্ত। (সহিহ মুসলিম ৫৩৫৫)
৯। বনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি এক লোককে তার লুঙ্গি (টাখ্নুর নীচে) ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বললেন, তুমি কোন্ কওমের লোক? সে তার বংশ পরিচয় দিল। বোঝা গেল সে বানী লায়স সম্প্রদায়ের লোক। তাকে তিনি চিনতে পারলেন। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আমার এ দু’টি কানে বলতে শুনেছি, “যে লোক তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলাফেরা করে আর এর মাধ্যমে শুধু অহঙ্কার প্রকাশ করতে চায় তাহলে কিয়ামাতের দিনে আল্লাহ তার প্রতি (রহ্মাতের) দৃষ্টি দিবেন না।” (সহিহ মুসলিম ৫৩৫২)
১০। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি রহ্মাতের দৃষ্টিতে দেখবেন না, যে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে অহংকার বশে।” (সহিহ মুসলিম ৫৩৫৬)
১১। আবূ বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহ্র রসূল! গিরা না দিলে আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যারা অহঙ্কার বশতঃ এমন করে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও। (সহিহ বুখারি ৫৭৮৪)
আছার সমূহ
১। বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদ (রা.) তার ইযার (লুঙ্গি বা নিচের পোশাক) টাখনুর নিচে ঝুলতে দিতেন। তাকে এ বিষয়ে কিছু বলা হলে তিনি বললেন, "আমার পা পাতলা এবং আমি লোকদের নামাযে ইমামতি করাই। (অর্থাৎ কাপড় সংক্ষিপ্ত হলে আমার পাতলা চিকন পা লোকেরা দেখবে।) ~ মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ, ৫/১৬৬। জায়্যিদ সনদে।
২। বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম আইয়ূব আস সাখতিয়ানী রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ "আগের যুগে অহংকার ছিল (টাখনুর) নিচে কাপড় ঝুলিয়ে দেয়ায়, আর আজকের যুগে অহংকার হচ্ছে (কাপড়) ছোট করে টাখনুর উপরে পরার মধ্যে।” তাই লোকেরা বলে, ইসবাল যদি হারাম বা কবিরা গুনাহ হতোই তবে ইবন মাসউদ বা আইয়ুব তাদের ইযার বা কামিস এভাবে লম্বা পড়তেন না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস #১৯৯৯২, সহীহ)
হাম্মাদ হতে বর্নিত, আইয়ূব আস সাখতিয়ানী আমাকে আদেশ করলেন তার পোশাক এমনভাবে কাটতে যেন সেটা তার পায়ের পাতা পর্যন্ত চলে আসে। (আল ইলাল, ইমাম আহমাদ, ৮৪১)
হানাফি মাযহাব
১। ইমাম বদরুদ্দিন আল আইনি আল হানাফি উমদাতুল কারী (২১/২২৯) বলেনঃ ইমাম বুখারি (অধ্যায়ঃ যে অহংকার ছাড়া কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে) বানিয়েছেন যারা অহংকার ব্যতীত কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে তাদের হুকুম জানাতে যে, এটাতে কোন সমস্যা নেই, এমনকি তা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় ও নয়।
২। ইমাম আবু হানীফা রহিমাহুল্লাহ এক দামী (লম্বা) পোশাক পরে সেটা মাটির সাথে ঘেঁষে আসলেন, তাকে বলা হল, "আমাদের কি এরকম করতে নিষেধ করা হয় নি?" তিনি বললেনঃ "এটা তাদের জন্য নিষেধ যারা জাকজমক প্রদর্শন ও অহংকার করার জন্য এমন করে (কাপড় মাটিতে ঝুলিয়ে চলে), আর আমরা তো তাদের মধ্যে পড়ি না।" [আল আদাবুশ শার'ইয়্যাহ (৩/৫২১), ইবন মুফলিহ, ফতোয়া হিন্দিয়া ৫/৩৩৩]
৩। ফতওয়া-এ-আলমগিরি (আল ফাতাওয়া আল হিন্দিয়া)তে বলা আছে,
إسْبالُ الرَّجُلِ إزارَهُ أسْفَلَ مِن الكَعْبَيْنِ إنْ لَمْ يَكُنْ لِلْخُيَلاءِ فَفِيهِ كَراهَةُ تَنْزِيهٍ
অর্থাৎ, বিনা অহংকারে টাখনুর নিচে লুঙ্গি ঝুলিয়ে দেয়া মাকরুহে তানযিহি (অপছন্দনীয়, তবে গুনাহ নেই)।
৪। মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরি বলেন, “যদি (ইসবাল) অহংকার বশত করা হয় তবে তা হারাম। আর যদি (অহংকারবশত) না হয় তবে মাকরুহ তানযিহী। [Badhl Al-Majhud, 16/411]
মালিকী মাযহাব
১। ‘রিসালাহ ইবন আবি যাইদ আল-কাইরাওয়ানি’ বইতে আল-আদাউই হাশিয়্যা তে উল্লেখ করেন: “পরিশেষে, অহংকার ব্যতীত ইসবাল এর ব্যাপারে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়। আল-হাত্তাব এর মতে, এতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই তবে মাকরুহ। যাখিরায় ইমাম কারাফি এর মতে, এটি নিষিদ্ধ। এ থেকে যে সঠিক মতে উপনীত হওয়া যায় তা হচ্ছে, খুবই নিন্দনীয় অর্থাৎ, মাকরুহ।” [২/৪৫৩]
২। মালিকি শাইখ সিদি রামি নসুর এ বিষয়ে বলেন, “অহংকারের সহিত কেউ এভাবে কাপড় পরিধান করলে কোন সন্দেহ ছাড়া তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে এ জাতীয় নিয়ত না থাকলে, যা অধিকাংশ লোক বর্তমানে করে থাকে সে ব্যাপারে হারাম, মাকরুহ এবং অনুমোদিত এর মতপার্থক্য রয়েছে। চার মাযহাবের অধিকাংশ উলামা একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেননি। তাই, টাখনুর নীচে কাপড় থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে এবং পুনরায় আদায়ের কোন প্রয়োজন নেই।” [মালিকি ফিকহ কিউএ (QA)]
৩। নবীজির (সঃ) বক্তব্য, “যে কেউই অহংকারবশত কাপড় টেনে টেনে পড়বে…”, অর্থাৎ এই হুকুম শুধুমাত্র যারা অহংকারবশত করে তাদের উপর প্রযোজ্য। কিন্তু যদি কারও কাপড় বেশী লম্বা হয় কিংবা অন্য কাপড় না পায় অথবা (অহংকার ব্যতীত) অন্য কোন কারণ থাকে তবে এই শাস্তির হুকুম তার উপর প্রযোজ্য হবে না।2 [al-Baji Maliki in 'al-Muntaqa' (9/314)]
৪। উপরে উল্লেখিত আবু বকরের ১১ নং হাদিস সম্পর্কে ইমাম ইবন বাত্তাল আল মালিকী বলেন,
“আবু বকরের হাদিসটিতে আছে যে তার পোশাকটি অনিচ্ছাকৃত নেমে এসেছিল। আর এতে তার কোন অহংকারের ইচ্ছেও ছিল না। তাই এতে কোন সমস্যা নেই। কারণ রাসুল (সঃ) তাকে বলেছেন, “যারা অহঙ্কারবশত এমন করে তুমি তো তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।” তুমি কি দেখনি যখন নবীজি সূর্য গ্রহণের সালাত পড়ার জন্যে তড়িঘড়ি করে নিজের কাপড় (জমিনে) টেনে টেনে নিয়ে আসছিলেন? তিনি (সঃ) তাঁর কথা আর কাজের মাধ্যমেই উম্মতের জন্যে এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে অহংকার না থাকলে এটা (ইসবাল) অনুমোদিত। [Sharah Saheeh al Bukhari 9/87].
৫। সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে কাযি ইয়ায আল মালিকী বলেন, “এই হাদিসটি অন্য একটি ইসবাল সম্পর্কিত সাধারণ হাদিসের তাখসিস যে, এমন (শাস্তির হুমকি শুধুমাত্র) তাদের জন্যে যারা অহংকারবশত করে। আর যদি অহংকারের সাথে না করে তবে এই সাবধানবানীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ নবী (সঃ) আবু বকরকে ছাড় দিয়েছিলেন যে, “যারা অহঙ্কারবশত এমন করে তুমি তো তাদের অন্তর্ভুক্ত নও।”3 (Ikmal al Muallim, 1/257).
৬। এই হাদিসটি থেকে বুঝা যায় যে, অহংকার এবং ঔদ্ধত্য ব্যতীত অন্য কোন কারণে কেউ (ইসবাল করলে) পোশাক জমিনে টানলে সে উক্ত সতর্কতার অধীন নয়। যদিও কোন পোশাক (এমনি এমনি) টেনে নিয়ে যাওয়া সকল ক্ষেত্রে নিন্দনীয়।” [Ibn Abdul-Barr Maliki in 'al-Tamheed' (3/244)]
মালিকী মাযহাবের মত হলো অহংকারবশত না করলে ইসবাল মাকরুহ, হারাম নয়।
শাফেয়ী মাযহাব
১। ইমাম নববী তা আল-মাজমু (৩/১৭৭)-তে ইমাম শাফেয়ী রহ. হতে বর্ননা করেনঃ নামায পড়া কিংবা অন্য সময়ে (আভিজাত্য) দেখানোর উদ্দেশ্যে পোশাক (টাখনুর) নীচে ঝুলিয়ে রাখার অনুমতি নেই। কিন্তু নামাযে (আভিজাত্য) প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যতিত অন্য কোন কারণে কাপড় ঝুলিয়ে রাখলে সেটা গুরুতর হবে না। কারণ যখন আবু বকর (রাঃ) নবীজিকে (সঃ) বললেন যে তার ইযার একপাশে ঝুলে পড়ে তখন তিনি (সঃ) বললেন, “তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও (যারা অহংকারবশত কাপড় ঝুলিয়ে রাখে)।”
২। ইমাম নববি বলেন, “টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধান করলে যে পরিণতির কথা বলা হয়েছে হাদিসে, তা ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যে অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে। টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করলে সেই অংশ জাহান্নামে যাবে—এ হাদিসের ব্যাখ্যা এ সম্পর্কিত আরেকটি হাদিস থেকে বোঝা যায়। আরেক হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির দিকে তাকাবেন না, যে অহংকারবশত তার কাপড় মাটির সঙ্গে ঝুলিয়ে পরে।
সুতরাং বুঝা গেল, টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা বলতে অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরাকে বোঝায়। কারন আমরা দেখেছি, সাহাবি আবু বকর (রা.) একবার নবিজিকে বলেছিলেন, আমার কাপড় তো মাঝে মাঝে টাখনুর নিচ পর্যন্ত চলে যায়। তখন নবিজি তাকে এর অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও, যারা অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরে।” [নববি সুন্নাহ, ইউসুফ আল কারযাভি, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন]
৩। শারহ মুসলিমে (১৪/৬২)4 ইমাম নববী বলেন, “অহংকারবশত কাপড় টাখনুর নীচে ঝুলিয়ে পড়ার অনুমতি নেই। কিন্তু এটা ছাড়া অন্য কোন কারণ থাকলে তা মাকরুহ…। বর্ননাগুলোর আপাত অর্থ থেকে বিষয়টি অহংকার/দম্ভ-এর সাথে সীমাবদ্ধ করে…। আর যে বর্ননাগুলো সাধারণভাবে (অহংকারের উল্লেখ ছাড়াই শাস্তির কথা) বলে, যেগুলো নির্দিষ্টকরণ হাদিসগুলো দ্বারা বুঝতে হবে।”
৪। ইবনে হাজার (রহ.) বলেন—“এ সম্পর্কিত যত হাদিস পাওয়া যায়, তা ব্যাখ্যা করলে বোঝা যায়, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করার যে কঠিন পরিণতির কথা বলা হয়েছে, অর্থাৎ টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করলে, সে অংশ জাহান্নামে যাবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন না—এগুলো সেই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে অহংকারবশত টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করে। তবে হাদিসে যেহেতু এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাই কখনই টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা উচিত নয়। তবে অহংকার ছাড়া যদি কখনো এমনি এমনি কাপড় টাখনুর নিচে চলে যায়, তখন তার জন্য হাদিসে বর্ণিত এমন ভয়ানক পরিস্থিতি হবে না।” [নববি সুন্নাহ, ইউসুফ আল কারযাভি, গার্ডিয়ান পাবলিকেশন]
৫। ইমাম কাস্তালানি আশ-শাফেয়ী ইরশাদ আল-সারি’ (২১/৪১৮)-তে বলেন,
“এই সাধারণ (মুতলাক) বর্ননাটি খাস বর্ননার আলোকে পড়তে হবে যেখানে বিষয়টিকে অহংকারের সাথে নির্দিষ্ট করেছে। ইমাম শাফেয়ী বলেন যে এই বিষয়টির নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র অহংকার থাকলেই নির্দিষ্ট হবে। কোন দম্ভ বা অহংকার না থাকলে বিষয়টি মাখরুহ তানযিহী।”5
৬। In 'Subul al-Salam', (4/158):
"The Hadith specifically restricts it to "arrogance/pride", this shows that if arrogance is not associated with this act, then this threat/warning (of punishment) does not apply to it."6
৭। As-San‘aani (may Allah have mercy on him) said:
The hadeeths indicate that whatever is below the ankles is in the Fire, which signals that it is haraam; they also indicate that the one who lets his izaar drag out of pride, Allah will not look at him, which also signals that it is haraam and that the punishment for pride is a specific punishment, which is that Allah will not look at him. This demonstrates that the view that it is not haraam unless it is done out of pride is not valid. [Isteefa’ al-Aqwaal fi Tahreem al-Isbaal ‘ala ar-Rijaal, p. 26]
৮। Al-Munaawi in 'Faydh al-Qadir':
"(Out of arrogance)", meaning he intends pride/arrogance, contrary to someone who doesn't intend this. That's why the Prophet made an exception for Abu Bakr, when his garment would extend without arrogance."7
৯। ইমাম আস সুয়ুতি বলেন, " ما أسفل من ذلك " ، (ما) موصولة و (أسفل) بالنصب خبر كان محذوفة والجملة صلة . ويجوزكون (ما) شرطية و (أسفل) فعل ماض . (ففي النار) أي محله من الرجل وذلك خاص بمن قصد به الخيلاء 8 [তানউইর ১/২১৭]
১০। ইমাম সুয়ুতি দিবাজ (১/১২২১)-তে বলেন, যে ব্যক্তি তার ইযাযের দু’মাথা অহংকারবশত ঝুলিয়ে রাখে"—বর্ননাটি আরেক হাদিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়েছে, “যে অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে টেনে নিয়ে যায় তার দিকে আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেবেন না।” কিন্তু আবু বকরকে এই অনুমতি দেয়া হয়েছিল যেহেতু তার কাপড় অহংকার ব্যতিত অন্য কারণে ঝুলতো।9
হাম্বলি মাযহাব
১। হাম্বলি মাযহাব (ও জমহুর উলামাদের) মত হলো টাখনুর নীচে কাপড় পরা হারাম নয়, বরং মাকরুহ। তবে যদি অহংকারবশত করা হয় তবে তা হারাম। এমন মত দিয়েছেন ইমাম ইবন কুদামাহ, ইমাম ইবন মুফলিহ ও মাযহাবের অন্যান্য ইমামগন। ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ সম্ভবত ‘তা মাকরুহ নয়, বরং মুবাহ’ এই মত পছন্দ করতেন। কিন্তু মাযহাবের বিশুদ্ধ মত হলো যে এটা মাকরুহ। [কাশফুল ক্বীনা, ও তাসহিহ আল-ফুরু’]10
২। আল-ইক্বনাতে (১/১৩৯) আছে, অকারণে কোন পুরুষের কাপড় টাখনুর নীচে চলে আসা মাকরুহ।
৩। ইমাম আহমদকে নামাযের সময় টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যদি সেটা অহংকারবশত না করে থাকে তবে তাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ নবীজি (সঃ) বলেছেন, যে নিজের কাপড় অহংকার বশত ঝুলিয়ে নিয়ে যাবে…।”11 [মাসাইল ইমাম আহমদ ওয়া ইসহাক ৩৩৪৯]
৩। ইমাম ইবন তাইমিয়্যাহ শারহুল উমদাহ (৪/৩৬৬)-তে বলেন, ❝যেহেতু এই বিষয়ক বেশীরভাগ হাদিসই অহংকারের সাথে সম্পৃক্ত তাই এটাকে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এর বাইরে যা আছে তার মূলবিধান জায়েযের ওপর হবে।❞ 12
৪। ইমাম ইবন কুদামাহ আল হাম্বলি মুগনিতে (২/২৯৮) বলেন, টাখনুর নীচে পোশাক পড়া মাকরুহ, কারণ নবীজি আমাদের কাপড় তুলে পড়তে বলেছেন। তবে যদি অহংকারবশত করা হয় তবে তা হারাম হবে।13
৫। ইবন মুফলিহ তার বিখ্যাত আদাবুশ শার'ইয়াহ তে (৩/৫২১) বলেন, "শেখ তাক্বিউদ্দিন ইবন তাইমিয়াহ রহিমাহুল্লাহ টাখনুর নিচে কাপড় পরাকে হারাম মনে করতেন না। তবে তিনি এটা মাকরুহ কি না সেটাও বলেন নি।"14
৬। ইমাম আল-বুহূতী হাম্বলী তাঁর গ্রন্থ কাশফুল ক্বীনাতে বলেন:
“ইসবাল অর্থাৎ অহংকারের সাথে কাপড় নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া একটি কবীরা গুনাহ, কারণ এ বিষয়ে কঠোর শাস্তির হুমকি এসেছে, যা পরবর্তীতে হাদিসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কাপড়ের কোনো অংশ অহংকারবশত ঝুলিয়ে দেওয়া হারাম। কারণ রাসূল ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে তার কাপড় ঝুলিয়ে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দিকে তাকাবেন না।” (বুখারী ও মুসলিম) আরও এসেছে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদের (রাঃ) হাদিসে, “যে ব্যক্তি নামাজে অহংকারের সাথে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে দেয়, সে আল্লাহর হালাল-হারামের মধ্যে নেই।” (আবু দাউদ)
বর্ণিত আছে, নবী ﷺ যখন তাঁর কিছু সাহাবীকে দেখলেন যে তারা সারির মাঝে গর্বভরে হাঁটছে, তখন তিনি বললেন, “এ ধরনের হাঁটা আল্লাহ অপছন্দ করেন, তবে এই (যুদ্ধের) ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।” কারণ যুদ্ধের সময় এমন আচরণ নিন্দনীয় নয়।
যদি কেউ প্রয়োজনবশত কাপড় ঝুলিয়ে দেয়, যেমন পায়ের কোনো ত্রুটি বা কুৎসিত অংশ ঢাকার জন্য, তাহলে তা বৈধ। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, নামাজে লুঙ্গি বা চাদর নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া যদি অহংকারের উদ্দেশ্যে না হয়, তাহলে এতে সমস্যা নেই; তবে যদি নারীদেরকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তা অশ্লীলতার অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে এসেছে, “যে আমাদেরকে ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
অনুরূপভাবে, কাপড় ঝুলিয়ে কুৎসিত পা ঢেকে রাখা যদি ধোঁকা দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে (যেমন বিয়ের ক্ষেত্রে), তবে তা নিষিদ্ধ। ‘আল-ফুরু’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো খাটো নারী যদি কাঠের কৃত্রিম পা ব্যবহার করে এবং তা বুঝতে না দেয় (তবে তাও ধোঁকা)।
পুরুষের পোশাক পায়ের নলার অর্ধেক পর্যন্ত হওয়া মুস্তাহাব। আর কোনো প্রয়োজন ছাড়া টাখনুর নিচে কাপড় পরা মাকরুহ। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, টাখনুর নিচে যা থাকবে তা জাহান্নামে যাবে (হাদিসের ভিত্তিতে)। তবে যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজন থাকে (যেমন পায়ের খুঁত ঢাকা), তবে তা মাকরুহ নয়। আর নলার অর্ধেক থেকে টাখনুর উপর পর্যন্ত যে কোনো দৈর্ঘ্যের কাপড় পরা মাকরুহ নয়।"15
৭। ইমাম শামসুদ্দীন ইবন মুফলিহ (৭৬৩ হি.) বলেন, হাম্বলের বর্ণনায় তিনি (ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল) বলেন : ‘যদি কেউ অহংকারবশত কাপড় (টাখনুর নিচে) না টানে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।’ এটি অনেক আসহাবের কথার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। আহমাদ আরও বলেন, ‘যা পায়ের গোড়ালির নিচে, তা আগুনে।’ তিনি তার কাপড়ের কোনো অংশ টানতেন না। এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি হারাম। এগুলি তিনটি বর্ণনা, এবং মাকরুহ হওয়ার বর্ণনাটি শাফেয়ী এবং তার আসহাবদের দ্বারা বর্ণিত।16
জমহুর মুহাদ্দিসদের মধ্যে হতে কিছু বক্তব্য
১। ইসহাক ইবন রাহওয়াই (রহ) এর মতও ইমাম আহমদের মতো ছিল।
২। ইমাম বুখারি তার সহিহ’তে একটি অধ্যায়ের নাম রেখেছেন,
(باب من جرّ إزاره من غير خيلاء)
“অধ্যায়ঃ যে অহংকার ব্যতিত কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে।”
এখানে তিনি আবু বকরের হাদিসটি এনে দেখিয়েছেন শাস্তি ও সাবধানবাণীর হুকুম অহংকারের সাথে সম্পৃক্ত।
৩। ইবন হিব্বান
ইমাম ইবনে হিব্বান (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর একটি অধ্যায় রচনা করেছেন:
ذِكْرُ الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجْلِهَا زُجِرَ عَنْ هَذَا الْفِعْلِ
“সেই কারণ বা ইল্লতের বর্ণনা, যার জন্য এই কাজ অর্থাৎ (মাটিতে) কাপড় টেনে চলা থেকে বারণ করা হয়েছে।” [সহীহ ইবনে হিব্বান: ১২/২৬০]
এই অধ্যায়ে তিনি অহংকার সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এরপরই নিচের অধ্যায়টি এনেছেন:
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُفَسِّرِ لِلَّفْظَةِ الْمُجْمَلَةِ الَّتِي تَقَدَّمَ ذِكْرُنَا لَهَا
“সেই বর্ণনা (হাদিস) সংক্রান্ত অধ্যায়, যা সেই অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করে, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।”
এই অধ্যায়ে তিনি আবু বকর (রা.)-এর হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন। [সহীহ ইবনে হিব্বান: ১২/২৬১]
একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ সেই ’মুসবিল’ (مسبل)-এর সাথে কথা বলবেন না, যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার লুঙ্গি বা পোশাক (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে রাখে।
এখানে ‘মুসবিল’ শব্দটি একটি সাধারণ (General) শব্দ। এর ব্যাখ্যায় ইবনে হিব্বান বলেন:
أَرَادَ بِهِ الْمُسْبِلَ إِزَارَهُ خُيَلَاءَ
“এর দ্বারা তিনি সেই ব্যক্তিকে বুঝিয়েছেন, যে অহংকারবশত নিজের লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে রাখে।” [সহীহ ইবনে হিব্বান: ১১/২৭২]
৪। ইমাম ইবন বাত্তালও সহিহ বুখারিতে আবু বকরের হাদিস উল্লেখ করে বলেন, “হাদিসে আছে যে আবু বকরের কাপড় যেহেতু অহংকারবশত ঝুলে ছিল না, তাতে কোন সমস্যা হয়নি…।17
৫। ইবন আবদুল বার বলেন,
“যে অহংকার বশত কাপড় ঝুলিয়ে টেনে নিয়ে যায় আল্লাহ তার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেবেন না।” এই হাদিস বোঝায় যে, কেউ যদি দম্ভ ও অহংকার ব্যতিত অন্য কোন কারণে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে তবে সে এই সাবধানবাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদিও সবসময়ই কাপড় ঝুলিয়ে পড়া ভালো কাজ নয়। তবে সাবধানবাণীটি শুধুমাত্র অহংকার বশত কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার সাথেই সম্পৃক্ত।18 [at-Tamheed by Ibn Abdul Barr 3/288]
আরও বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুনঃ https://systemoflife.com/letting-the-garments-hang-below-the-ankle/
৬। হাকিম আত-তিরমিযির মত জানতে পড়ুন এই আর্টিকেলটি
সালফে সালেহীনদের আমল
১। উমর ইবন আবদুল আযিযের শার্ট ও জুব্বা তার টাখনু ও জুতোর ফিতের মধ্যখানে থাকতো। [Musannaf Ibn Abi Shayba 24839]
২। আতা বিন আবি রাবাহ’কে ইবন জুরজি প্রায়ই কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়তে দেখতেন। [Sunan Abu Dawud no. 644]
৩। উপরের বর্ননায় ইমাম বায়হাকি মন্তব্য করেন, সম্ভবত আতা অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ার হাদিসটি ভুলে গিয়েছিলেন। অথবা তিনি হয়তো অহংকার ব্যতিত পড়লে সমস্যা নেই এই মত পোষণ করতেন। [Sunan al Kubra al Bayhaqi 2/343]
৪। ইবরাহিম আন নাখাইর কাপড় তার পায়ের পাতার উপর ঝুলতো। [al Musannaf Ibn Abi Shayba: 24845]
যারা যারা অহংকার ব্যতিতই হারাম হবার পক্ষে রায় দিয়েছেন
১। ইমাম ইবন হাজার আসকালনি আশ-শাফিয়ী
২। ইমাম যাহাবি আশ-শাফিয়ী
৩। ইমাম সান’আনি
৪। শাইখ বিন বায
৫। শাইখ ইবন উসাইমিন
৬। শাইখ ইবন জিবরিন
৭। শাইখ সালিহ আল ফাউযান
৮। ইবন আরাবি আল মালিকি
৯। আল-কুরাফি আল মালিকি
১০। আধুনিক দেওবন্দী উলামা
পায়ের গিরার প্রায় ছয় আঙ্গুল উপরি অংশকে ‘নিস্ফ সাক’ বলে।
وقوله صلى الله عليه وسلم الذي يجر ثوبه خيلاء يقتضي تعلق هذا الحكم بمن جره خيلاء، أما من جره لطول ثوب لا يجد غيره، أو عذر من الأعذار فإنه لا يتناوله الوعيد
معلقاً على حديث ابن عمر لا ينظر الله عز وجل يوم القيامة إلى من جر ثوبه خيلاء « تخصيص جره على وجه الخيلاء يدل على أن من جره لغير ذلك فليس بداخل تحت الوعيد وقد رخص في ذلك النبي خ لأبى بكر الصديق ا وقال :(لست منهم) إذ كان جره إياه لغير الخيلاء
قال النووي في شرح مسلم ١٤/ ٦٢ (الإسبال يكون في الإزار والقميص والعمامة، وأنه لا يجوز إسباله تحت الكعبين إن كان للخيلاء، فإن كان لغيرها فهو مكروه، وظواهر الأحاديث في تقييدها بالجر خيلاء تدل على أن التحريم مخصوص بالخيلاء، وهكذا نص الشافعى على الفرق كما ذكرنا ...فما نزل عن الكعبين فهو ممنوع، فإن كان للخيلاء فهو ممنوع منع تحريم، والا فمنع تنزيه، وأما الأحاديث المطلقة بأن ما تحت الكعبين في النار فالمراد بها ما كان للخيلاء، لأنه مطلق فوجب حمله على المقيد، قال القاضي: قال العلماء وبالجملة يكره كل مازاد على الحاجة والمعتاد في اللباس من الطول والسعة).
وهذا الإطلاق محمول على ما ورد من قيد الخيلاء ، وقد نص الشافعي - رحمه الله - على أن التحريم مخصوص بالخيلاء، فإن لم يكن للخيلاء كره للتنزيه
سبل السلام (4/158):" وتقييد الحديث بالخيلاء دال بمفهومه أنه لا يكون من جره غير خيلاء داخلا في الوعيد . وقد صرح به ما أخرج البخاري وأبو داود والنسائي أنه قال أبو بكر رضي الله عنه لما سمع هذا الحديث: إن إزاري يسترخي إلا أن أتعاهده، فقال له صلى الله عليه وآله وسلم:"إنك لست ممن يفعله خيلاء" ، وهو دليل على اعتبار المفاهيم من هذا النوع.اهـ
(والمسبل إزاره) الذي يطوّل ثوبه ويرسله إذا مشى تيهاً وفخراً (خيلاء) أي يقصد الخيلاء بخلافه لا بقصدها ولذلك رخص المصطفى صلى اللّه عليه وسلم في ذلك لأبي بكر حيث كان جره لغير الخيلاء
" ما أسفل من ذلك " ، (ما) موصولة و (أسفل) بالنصب خبر كان محذوفة والجملة صلة . ويجوزكون (ما) شرطية و (أسفل) فعل ماض . (ففي النار) أي محله من الرجل وذلك خاص بمن قصد به الخيلاء .
" المسبل إزاره المرخي له الجار طرفيه خيلاء فهو مخصص بالحديث الآخر "لا ينظر الله إلى من جر ثوبه خيلاء " ، وقد رخص في ذلك لأبي بكر حيث كان جره لغير الخيلاء ."
https://thethinkingmuslim.com/2019/02/19/hanbali-ruling-on-isbal-clothes-below-the-ankles/
قلت: جر الإزار وإسبال الثوب في الصلاة؟
قال: إذا لم يرد به الخيلاء فلا بأس به. قال رسول الله – صلى الله عليه وسلم -: “من جر ثوبه من الخيلاء
قال ابن تيمية رحمه الله: ولأن الأحاديث أكثرها مقيدة بالخيلاء فيحمل المطلق عليه, وما سوى ذلك فهو باق على الإباحة, وأحاديث النهي مبنية على الغالب والمظنة . (شرح العمدة 4/366)
قال ابن قدامة في المغني (2/298): ويكره إسبال القميص والإزار والسراويل؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر برفع الإزار، فإن فعل ذلك على وجه الخيلاء حرام."
বিস্তারিত দেখুন শারহুল উমদাহ লি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ, পৃঃ ৩৬১-৩৬২
ইমাম বুহুতি, কাশফুল ক্বীনা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৭
আল-আদাবুশ শারইয়্যাহ ওয়াল মিনাহুল মারইয়্যাহ, ইবনুল মুফলিহ ৩/৫২১
وفى حديث أبى بكر بيان أن سقط ثوبه بغير قصده وفعله ولم يقصد بذلك الخيلاء فإنه لا حرج عليه فى ذلك، لقوله عليه السلام لأبى بكر: (لست ممن يصنعه خيلاء) ألا ترى أن النبى عليه السلام جر ثوبه حين استعجل المسير إلى صلاة الخسوف، وهو مبين لأمته بقوله وفعله. وقد كان ابن عمر يكره أن يجر الرجل ثوبه على كل حال وهذه من شدائد ابن عمر، لأنه لم تخف عليه قصة أبى بكر وهو الراوى لها، والحجة فى السنة لا فى ما خلفها
وَهَذَا الْحَدِيثُ يَدُلُّ عَلَى أَنَّ مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ مِنْ غَيْرِ خُيَلَاءَ وَلَا بَطَرٍ أَنَّهُ لَا يَلْحَقُهُ الْوَعِيدُ الْمَذْكُورُ غَيْرَ أَنَّ جَرَّ الْإِزَارِ وَالْقَمِيصِ وَسَائِرِ الثِّيَابِ مَذْمُومٌ عَلَى كُلِّ حَالٍ وَأَمَّا الْمُسْتَكْبِرُ الَّذِي يَجُرُّ ثَوْبَهُ فَهُوَ الَّذِي وَرَدَ فِيهِ ذَلِكَ الْوَعِيدُ الشَّدِيدُ



